জরুরি সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য পুণ্যভূমি সিলেট নগরীর বিস্তৃত এলাকায় আগামীকাল শনিবার দীর্ঘ ৮ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সঞ্চালন লাইনের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও বর্ষা মৌসুমের আগে টেকসই সেবা নিশ্চিত করতেই এই সাময়িক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিউবো) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আগামী ১৮ এপ্রিল শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নগরীর বড় একটি অংশে বিদ্যুৎ থাকবে না। বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-২ এর আওতাধীন ১১ কিলোভোল্ট (বিদ্যুতের উচ্চচাপের সঞ্চালন রেখা) ফিডারগুলোর জরুরি মেরামত ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ বা ট্রান্সফর্মার পরিবর্তনের কাজের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নগরীর যে সমস্ত এলাকা এই দীর্ঘ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আওতায় থাকবে, তার একটি তালিকা প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ। তালিকা অনুযায়ী— চালিবন্দর, কাষ্টঘর, সোবানীঘাট, বিশ্বরোড, জেলরোড, বন্দরবাজার, আমজাদ আলী রোড, কালীঘাট, ছড়ারপার, মাছিমপুর, মহাজনপট্টি এবং হকার্স মার্কেট এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে। এছাড়াও লালদীঘিরপাড়, ডাকবাংলা রোড, বুরহান উদ্দিন মাজার এলাকা, শাপলাবাগ, কুশিঘাট, মেন্দিবাগ, মিরাপাড়া, নোয়াগাঁও, সাদাটিকর, মিরেরচক, মুক্তিরচক, মুরাদপুর, টুলটিকর এবং পীরেরচক এলাকার গ্রাহকরাও এই দিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সেবা পাবেন না।
সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বিভাগ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার রাতেই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, মূলত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এই কাজগুলো করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরগুলোতে সাময়িক বিঘ্ন ঘটতে পারে। তবে কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ হলে বিকেলের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গ্রাহকদের ভোগান্তির কথা বিবেচনা করে বিদ্যুৎ বিভাগ আগাম দুঃখ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে গরমের এই সময়ে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ না থাকা নাগরিকদের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য হতে পারে। তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি এড়াতে এমন আগাম রক্ষণাবেক্ষণ অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা এই উন্নয়নমূলক কাজ চলাকালীন সময়ে জনসাধারণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।
আধুনিক নাগরিক জীবনে এক মুহূর্তও বিদ্যুৎ ছাড়া চলা প্রায় অসম্ভব। তবে দীর্ঘমেয়াদী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে সাময়িক এই কষ্ট স্বীকার করা ছাড়া বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ বিভাগের উচিত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করে গ্রাহকদের ভোগান্তি কমিয়ে আনা। একই সঙ্গে নাগরিকদের উচিত দীর্ঘ এই বিরতির কথা মাথায় রেখে নিজেদের জরুরি কাজগুলো আগেই গুছিয়ে রাখা এবং বৈদ্যুতিক বিকল্প ব্যবস্থার প্রস্তুতি রাখা।