হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে নির্মাণাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কে তিনটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি ভয়াবহ সংঘর্ষে তিন যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় আরও দুজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে আজমিরীগঞ্জ উপজেলার জলসুখা ইউনিয়নের জলসুখা সেতু (ব্রিজ) এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত যুবকেরা হলেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের চন্দনের ছেলে অন্তর (২৫), বানিয়াচং উপজেলার আমিরখানী গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে তানভীর এবং একই গ্রামের নুরুল লস্করের ছেলে আবিদুল লস্কর (৩২)।
এই ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন চুনারুঘাট উপজেলার শেখেরগাঁও গ্রামের আব্দুস শহিদের ছেলে সাহিদুল ইসলাম বাচ্চু (৩৫) এবং গোছাপাড়া গ্রামের আব্দুর জব্বারের ছেলে মিজান মিয়া (২৭)। আহত দুজনেই বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিও (নন-গভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশন) ‘ব্যুরো বাংলাদেশ’-এর কর্মী হিসেবে কর্মরত আছেন। স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শারীরিক অবস্থার অবনতি থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আজমিরীগঞ্জ-শাল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের জলসুখা সেতু এলাকায় দ্রুতগতির তিনটি মোটরসাইকেলের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয়। বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং রক্তাক্ত অবস্থায় চারজনকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আরও দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত দুই কর্মীর অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় চিকিৎসক তাঁদের দ্রুত সিলেটে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আজমিরীগঞ্জ থানা-পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনগুলো হেফাজতে নেয়। আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আকবর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলে একজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহতদের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
আঞ্চলিক এই নতুন সড়কটিতে প্রতিনিয়ত দ্রুত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর কারণে স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও তরুণদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং ট্রাফিক (যানবাহন নিয়ন্ত্রণ) আইন না মানার প্রবণতাই এই দুর্ঘটনার মূল কারণ। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে চালকদের আরও বেশি সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।