পর্তুগালের লিসবনে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের (ইউরোপের সেরা ক্লাবগুলোর ফুটবল প্রতিযোগিতা) কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছে আর্সেনাল। বদলি হিসেবে নামা জার্মান ফরোয়ার্ড কাই হ্যাভার্টজের শেষ মুহূর্তের জাদুকরী গোলে স্পোর্টিং লিসবনকে তাদের ঘরের মাঠেই স্তব্ধ করে দিয়েছে গানাররা।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে লিসবনের জোসে আলভালাদে স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছিল। স্বাগতিক স্পোর্টিং নিজেদের চেনা মাঠে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। ম্যাচের মাত্র ষষ্ঠ মিনিটে ম্যাক্সিমিলিয়ানো আরাউহোর একটি জোরালো শট আর্সেনালের গোলপোস্টের উপরিভাগে লেগে ফিরে আসলে নিশ্চিত গোল থেকে রক্ষা পায় ইংলিশ ক্লাবটি। দশম মিনিটে আবারও স্বাগতিকদের একটি প্রচেষ্টা রুখে দেন আর্সেনালের বিশ্বস্ত গোলরক্ষক ডেভিড রায়া।
প্রথমার্ধে আর্সেনাল কিছুটা রক্ষণাত্মক থাকলেও বিরতির ঠিক আগে মার্টিন ওডেগোর একটি দূরপাল্লার শট নিয়েছিলেন, যা ছিল প্রথমার্ধে তাদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য আক্রমণ। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর দ্বিতীয় ভাগে দুই দলই গোলের নেশায় মরিয়া হয়ে ওঠে। ৬৩ মিনিটে মার্টিন জুবিমেন্দি বল জালে জড়ালেও অফসাইড (খেলোয়াড়ের অবস্থান নিয়মবহির্ভূত হওয়া) হওয়ার কারণে তা বাতিল করে দেন রেফারি।
ম্যাচ যখন ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখন আর্সেনাল শিবিরে চোটের কালো মেঘ দেখা দেয়। চোট নিয়ে মাঠ ছাড়েন দলের অন্যতম ভরসা লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ড ও অধিনায়ক ওডেগোর। এর মধ্যে ৭১ মিনিটে অভিজ্ঞতার ঝুলি থেকে তুরুপের তাস বের করেন কোচ মিকেল আর্তেতা। মাঠে নামান কাই হ্যাভার্টজকে। ৮৭ মিনিটে লুইস সুয়ারেজের একটি চমৎকার হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় ঠেকিয়ে দিয়ে দলের হার বাঁচান গোলরক্ষক রায়া।
অবশেষে ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চূর্ণ করে ডি-বক্সের ভেতর একটি নিখুঁত ক্রস বাড়ান। ঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় অবস্থান করা হ্যাভার্টজ ১০ গজ দূর থেকে অসাধারণ এক ফিনিশিংয়ে (আক্রমণ সমাপ্ত করা) বল জালে জড়িয়ে দেন। এই গোলেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্সেনাল শিবির। পুরো ম্যাচে ৫৬ শতাংশ বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে সাতটি শটের মধ্যে চারটিই লক্ষ্যে রেখেছিল গানাররা।
আর্সেনালের এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং এটি তাদের মানসিক দৃঢ়তার বহিঃপ্রকাশ। গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের চোট আর প্রতিপক্ষের মাঠে প্রবল চাপের মুখেও যেভাবে তারা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়ে গেছে, তা চ্যাম্পিয়ন দলগুলোর লক্ষণ। তবে ফিরতি লেগের আগে ওডেগোর ও ট্রোসার্ডের চোট আর্তেতার কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়াতে পারে। নিজেদের মাঠে পরের ম্যাচে এই ব্যবধান ধরে রাখাই এখন গানারদের আসল চ্যালেঞ্জ।