Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এল আরেকটি জাহাজ

Roksana
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এল আরেকটি জাহাজ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধাবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতার আশঙ্কার মধ্যেই দেশের বাজারে স্বস্তির খবর মিলেছে। ৩০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে মালয়েশীয় একটি বিশালাকার জাহাজ। সরকারের এই পদক্ষেপে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।

 বিশ্বজুড়ে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে যেখানে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী এক ধরনের উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই মুহূর্তে মালয়েশিয়া থেকে বিশাল এই জ্বালানি তেলের চালান দেশে এসে পৌঁছাল। মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরের বর্হিনোঙ্গরের (জাহাজ রাখার নির্ধারিত খোলা জায়গা) আলফা অ্যাংকরেজে ‘পিভিটি সোলানা’ নামের জাহাজটি নোঙ্গর করে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে, মালয়েশিয়া থেকে আসা এই জাহাজটিতে ৩০ হাজার টন পরিশোধিত ডিজেল রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি বর্হিনোঙ্গরে থাকলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেটিকে বন্দরের ডলফিন জেটিতে (জ্বালানি তেল খালাসের জন্য বিশেষায়িত ঘাট) নিয়ে আসা হবে। সেখানে তেল খালাসের কাজ শুরু হলে সরাসরি তা পাইপলাইনের মাধ্যমে পরিশোধনাগার ও মজুত কেন্দ্রে চলে যাবে।

এর আগে গত বুধবার সিঙ্গাপুর থেকে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের আরেকটি জাহাজ জ্বালানি তেল নিয়ে বন্দরে এসেছিল। কেবল ডিজেল নয়, রান্নার কাজে ব্যবহৃত তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সরবরাহেও গতি ফিরেছে। সোমবার রাতেই ‘পল’ এবং ‘সেনা ৯’ নামের দুটি এলপিজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জলসীমায় প্রবেশ করেছে। এ ছাড়াও মঙ্গলবার ‘গ্যাস চ্যালেঞ্জার’ নামের একটি এলপিজি জাহাজ এবং আগামী ৪ এপ্রিল ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের একটি এলএনজিবাহী জাহাজ বন্দরে আসার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে এবং গত এক মাসে হরমুজ প্রণালী (পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ) ও অন্যান্য বিকল্প পথ ব্যবহার করে ছোট-বড় মোট ৩৫টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বাংলাদেশে এসেছে। এই জাহাজগুলোর মাধ্যমে তেল, এলপিজি ও এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত থাকায় বড় ধরনের কোনো জ্বালানি সংকটের ঝুঁকি আপাতত কেটে গেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর গড়ে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হয়। এই চাহিদার একটি বড় অংশ অর্থাৎ ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। মূলত সিঙ্গাপুর, চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়াসহ মোট সাতটি দেশ থেকে এই তেল কেনা হয়। বাকি ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল আসে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা থাকলেও বিকল্প উৎসগুলো থেকে নিয়মিত তেল আসায় অভ্যন্তরীণ বাজারে এর বড় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা কম।

চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দ্রুত খালাস করে সারাদেশে সরবরাহের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এর ফলে আসন্ন মাসগুলোতে কলকারখানা ও পণ্য পরিবহনে জ্বালানির কোনো ঘাটতি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

 বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও জ্বালানি আমদানির এই নিরবচ্ছিন্ন ধারা দেশের অর্থনীতির জন্য এক বড় স্বস্তি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর আমাদের এক পঞ্চমাংশ জ্বালানি নির্ভর করায় দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প বাজার ও নিজস্ব মজুত সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। আমদানির বহুমুখীকরণ এবং সময়োপযোগী সরকারি সিদ্ধান্তই পারে আন্তর্জাতিক সংকটের মাঝেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখতে। বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়ে আরও বেশি দূরদর্শী হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

এলাকা: চট্টগ্রাম
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে এল আরেকটি জাহাজ

R
Roksana | 31 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার