Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে হামের সদৃশ উপসর্গ নিয়ে মাত্র ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনে জেলা সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলার সব সরকারি হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বিশেষ সেবা ইউনিট) চালুর বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


মুকসুদপুর উপজেলার টেংরাখোলা ইউনিয়নের হোগলাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা তুহিন শেখ ও নাজমা বেগম দম্পতির ছোট সন্তান তুবা ইসলাম তোহা গত শুক্রবার ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুটি কয়েকদিন ধরে তীব্র জ্বর, শ্বাসকষ্ট এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‍্যাশের সমস্যায় ভুগছিল। স্থানীয় হাসপাতাল থেকে শুরু করে ঢাকার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েও শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার জেলা সিভিল সার্জন আবু সাঈদ মোহাম্মদ ফারুক একটি জরুরি সমন্বয় সভা আহ্বান করেন। সভায় গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেলা সদর হাসপাতাল এবং সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ও চিকিৎসকরা অংশ নেন। সভায় মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার থেকে আক্রান্ত এলাকায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং ওই এলাকায় অন্য কোনো শিশু একই ধরনের উপসর্গে ভুগছে কি না, তা নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখবেন।

সিভিল সার্জন সাংবাদিকদের জানান, "কমিটির সদস্যরা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং কোনো সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। আমরা মাঠ পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছি যেন তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে জ্বরে আক্রান্ত শিশুদের পর্যবেক্ষণ করেন।" তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমানে গোপালগঞ্জের কোনো হাসপাতালে হামে আক্রান্ত রোগী ভর্তি নেই। সাধারণ জ্বর নিয়ে কিছু শিশু ভর্তি থাকলেও তাদের মধ্যে হামের কোনো লক্ষণ দেখা যায়নি। জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে হামের প্রতিষেধক বা টিকার (রোগ প্রতিরোধক ঔষধ) মজুত রয়েছে এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

তুবাকে বাঁচানোর করুণ লড়াইয়ের বর্ণনা দিতে গিয়ে তার মা নাজমা বেগম জানান, গত ১৯ মার্চ শিশুটি প্রথম জ্বরে আক্রান্ত হয়। পরদিন থেকে জ্বরের পাশাপাশি তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। প্রথমে মুকসুদপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলেও সেখানে চিকিৎসায় তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। এরপর স্থানীয় একটি বেসরকারি ক্লিনিকের চিকিৎসকের পরামর্শে ঔষধ খাওয়ানো হলেও শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। জ্বরের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার সারা শরীরে লালচে রঙের ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে।

গত ২৬ মার্চ শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক হয়ে পড়লে তাকে পুনরায় উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানেও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ওই রাতেই তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি হাসপাতালের দীর্ঘসূত্রতা ও সেবায় সন্তুষ্ট হতে না পেরে পরিবারটি শিশুটিকে ঢাকার মালিবাগের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার দুপুরে শিশুটি চিরবিদায় নেয়।

সংশ্লিষ্ট এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী খোরশেদা মল্লিক জানান, তুবা জন্মের পর থেকেই রুটিন মাফিক সব টিকা গ্রহণ করেছে। গত ২৫ মার্চ তার হামের টিকা দেওয়ার তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু শিশুটি আগে থেকেই অসুস্থ থাকায় সেদিন তাকে টিকা দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্বাস্থ্যকর্মীরা ওই পরিবারকে জানিয়েছিলেন যে, শিশুটি সুস্থ হলে এক মাস পর পুনরায় টিকা দেওয়া হবে। কিন্তু তার আগেই শিশুটি মারা যায়।

মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা রায়হান ইসলাম শোভন বলেন, "গত তিন বছরে আমাদের এই অঞ্চলে হামের কোনো নিশ্চিত রোগী পাওয়া যায়নি। হাম একটি ছোঁয়াচে রোগ হলেও বর্তমানে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। তবে এই শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর আমরা পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।"

শুক্রবার হোগলাডাঙ্গা গ্রামের স্থানীয় কবরস্থানে শিশু তুবাকে দাফন করা হয়েছে। সন্তানের অকাল মৃত্যুতে পরিবারটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, হামের প্রাদুর্ভাব রোধে তারা জেলাজুড়ে সতর্কতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে।


একটি শিশুর অকাল মৃত্যু আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং সচেতনতার গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। হামের মতো রোগ, যা কি না টিকার মাধ্যমে সহজেই প্রতিরোধযোগ্য, তার উপসর্গে মৃত্যু হওয়াটা উদ্বেগের বিষয়। গ্রামীণ পর্যায়ে টিকাদান কর্মসূচির পরিধি বাড়ানো এবং সাধারণ জ্বরের সাথে হামের পার্থক্য সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে জরুরি সেবার মান এবং অক্সিজেনের মতো জীবনরক্ষাকারী উপকরণের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো অনেক প্রাণ অকালেই ঝরে পড়ত না। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় কেবল মজুত নয়, বরং মাঠ পর্যায়ের তদারকি আরও জোরদার হওয়া প্রয়োজন।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

গোপালগঞ্জে হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু

R
Roksana | 30 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার