ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ৮ এপ্রিল এই নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফশিল ঘোষণা করা হবে এবং মে মাসের ১২ তারিখে ভোটগ্রহণের দিন ধার্য করেছে নির্বাচন কমিশন। সোমবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ এক সভা শেষে এসব তথ্য জানানো হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনের সভাকক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় একাদশ কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। তিনি জানান, আইনি বাধ্যবাধকতা মেনেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে চায় কমিশন। সেই লক্ষ্যেই আগামী ৮ এপ্রিল তফশিল প্রকাশ করা হবে।
সচিব আরও জানান, সংরক্ষিত আসনের পাশাপাশি ঝুলে থাকা অন্য নির্বাচনগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। আগামী ৯ মে বগুড়া-৬ এবং শেরপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এই নির্বাচন দুটিকে গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের মতোই কড়াকড়ি ও গুরুত্বের সাথে দেখছে কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ বজায় রাখতে সব ধরনের প্রশাসনিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বর্তমানে আদালতে প্রায় ৫০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এই আইনি জটিলতার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর নির্বাচনের সরঞ্জাম (ব্যালট বাক্স, ভোটপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী) এখনই নষ্ট করা হচ্ছে না। সচিব নিশ্চিত করেছেন যে, মামলাগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বা অন্তত এক বছর পর্যন্ত এই সামগ্রীগুলো কঠোর নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করা হবে।
এবারের কমিশন সভায় মোট পাঁচটি আলোচ্য সূচি রাখা হয়েছিল, যার মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনই ছিল প্রধান। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের প্রাপ্ত সাধারণ আসনের আনুপাতিক হারে সংরক্ষিত নারী আসন লাভ করে। দলগুলো ইতিমধ্যে তাদের মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা ও জোটগত অবস্থানের তথ্য নির্বাচন কমিশনে জমা দিয়েছে। সেই তালিকা অনুযায়ী মূলত বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথ প্রশস্ত থাকে।
আইন অনুযায়ী, সাধারণ আসনের নির্বাচনের সরকারি প্রজ্ঞাপন (গেজেট) প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনের ভোট শেষ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সাধারণ আসনের প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হওয়ায় আগামী ১৪ মে পর্যন্ত সময় হাতে রয়েছে কমিশনের। ১২ মে ভোটগ্রহণের মাধ্যমে সেই সময়ের মধ্যেই প্রক্রিয়াটি শেষ করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন।
সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সংসদীয় গণতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে। তবে কেবল সংখ্যার বিচারে আসন বণ্টন না করে, যোগ্য ও ত্যাগী নারী নেত্রীদের মূল্যায়ন করা রাজনৈতিক দলগুলোর নৈতিক দায়িত্ব। অন্যদিকে, ঝুলে থাকা উপ-নির্বাচনগুলো নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কঠোর অবস্থান জনমনে আস্থার জায়গা তৈরি করতে পারে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আদালতে বিচারাধীন মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনী সরঞ্জাম সংরক্ষণের সিদ্ধান্তটিও প্রশংসনীয়। গণতান্ত্রিক ধারা সমুন্নত রাখতে একটি কার্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ সংসদ গঠন এখন সময়ের দাবি।