Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

Roksana
29 August 2026, 01:51 AM পড়তে ১ মিনিট
সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

প্রশাসনের ‘অযথা হয়রানি’ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের ঝুলে থাকা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে সিলেট বিভাগজুড়ে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন জ্বালানি ব্যবসায়ীরা। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টা থেকে বিভাগের চার জেলায় সব ধরনের পেট্রোল পাম্প ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস (সিএনজি) ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।


সিলেট অঞ্চলের পরিবহন ও জ্বালানি খাতে এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি করে আকস্মিক এই ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলারস, ডিস্ট্রিবিউটার্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (জ্বালানি তেল পরিবেশক ও পাম্প মালিকদের সংগঠন) সিলেট বিভাগীয় কমিটি। বৃহস্পতিবার রাতে সংগঠনের এক জরুরি সভায় এই কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। মালিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এবং তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বারবার উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে।

জ্বালানি ব্যবসায়ীদের এই কর্মসূচির ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় এক প্রকার অচলবস্থা তৈরি হয়েছে। রাত ১২টা বাজার পর থেকেই পাম্পগুলোতে দড়ি খাটিয়ে তেল ও গ্যাস বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়। পাম্প মালিকরা জানিয়েছেন, তারা আর পিঠ ঠেকানোর মতো অবস্থায় নেই। প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তর থেকে অযথা তল্লাশি, জরিমানা এবং নানাবিধ নিগ্রহের প্রতিবাদে তারা এই ‘চরম পথ’ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এই আকস্মিক ধর্মঘটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে সাধারণ যাত্রী এবং পণ্যবাহী যানবাহনের ওপর। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকেই যখন এই খবর ছড়িয়ে পড়ে, তখন সিলেটের বিভিন্ন পাম্পে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বাস-ট্রাকের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। মাঝরাতের আগেই অনেকে শেষবারের মতো জ্বালানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। তবে রাত ১২টা বাজার সাথে সাথেই জ্বালানি বিক্রয় কেন্দ্রগুলো তাদের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়। ফলে অনেক দূরপাল্লার চালক মাঝপথে আটকা পড়েছেন।

সিলেটের পরিবহন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এই ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে রমজান মাসে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম এর ফলে এক লাফে বেড়ে যেতে পারে। এ ছাড়া সিলেটের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে আসা ভ্রমণপিপাসুরাও বিপাকে পড়েছেন। ভাড়া করা গাড়িগুলো জ্বালানি না পেয়ে মাঝপথে আটকে পড়ার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে। সবচেয়ে সংকটে পড়েছেন জরুরি সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তিরা। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী বহনকারী রোগীবাহী যান (অ্যাম্বুলেন্স) চালকরা গ্যাস ও তেল না পেয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

পাম্প মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাম্পগুলোতে নিয়মিত অভিযানের নামে হয়রানি বন্ধ করা, জ্বালানি তেলের পরিমাপ নিয়ে অযৌক্তিক জরিমানা না করা এবং ইজারা সংক্রান্ত জটিলতার স্থায়ী সমাধান। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যতদিন না প্রশাসন থেকে সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আশ্বাস পাওয়া যাচ্ছে, ততদিন এই ধর্মঘট চলবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো পাম্প থেকে এক ফোঁটা তেল বা এক ঘনফুট গ্যাসও সরবরাহ করা হবে না।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দাপ্তরিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জেলা 

প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানা গেছে। তবে ধর্মঘট শুরু হওয়ার পর থেকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকের মতে, মালিকপক্ষ ও প্রশাসনের মধ্যকার রেষারেষিতে সাধারণ জনগণকে কেন ভোগান্তির শিকার হতে হবে?

সিলেটের স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই অঞ্চলটি পর্যটন ও চা শিল্পের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মঘটের ফলে চা বাগানগুলোর উৎপাদন এবং পর্যটন শিল্পের ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। পরিবহন শ্রমিকরা জানিয়েছেন, যদি তেল ও গ্যাস না পাওয়া যায়, তবে কেবল ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, আন্তঃজেলা বাস চলাচলও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। বর্তমানে সিলেটের সবকটি বাস টার্মিনালে জ্বালানি সংকটের কারণে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।


যেকোনো পেশাজীবী বা ব্যবসায়ী সংগঠনের ধর্মঘট করার গণতান্ত্রিক অধিকার থাকলেও, জ্বালানির মতো একটি অতি জরুরি সেবা বন্ধ করে দেওয়া জনস্বার্থের পরিপন্থী কি না, সেই প্রশ্ন আজ বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে যদি কোনো হয়রানি হয়ে থাকে, তবে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা কি সম্ভব ছিল না? সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায়ের এই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত কার স্বার্থ রক্ষা করে, তা ভেবে দেখার সময় এসেছে। সরকার ও প্রশাসনের উচিত অবিলম্বে মালিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া। অন্যথায় এই সংকট কেবল সিলেটের ভৌগোলিক সীমায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।

এলাকা: সিলেট
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

সিলেটে পেট্রোল পাম্প ও সিএনজি স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

R
Roksana | 02 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার