Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

সংকটকে পুঁজি করে অসাধু কারবার: সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

Roksana
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
সংকটকে পুঁজি করে অসাধু কারবার: সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

দেশজুড়ে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কার সুযোগ নিয়ে অবৈধ মজুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে নেমেছে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন। সোমবার ফৌজদারহাটের সীতাকুণ্ড এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ ডিজেল উদ্ধার করা হয়েছে, যা বর্তমান অস্থিতিশীল বাজারে বড় ধরনের অসাধু তৎপরতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

 বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেলের বাজারে যখন অস্থিরতা বিরাজ করছে, ঠিক তখনই চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবৈধভাবে তেল মজুদের এক বিশাল আস্তানার সন্ধান পেয়েছে জেলা প্রশাসন। সোমবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফৌজদারহাট সংলগ্ন জলিল বস্ত্র কারখানা (টেক্সটাইল) এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে অন্তত ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করা হয়েছে। প্রশাসনের এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে বড় ধরনের একটি কালোবাজারি পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলার এই নির্দিষ্ট এলাকায় একটি পুরনো ও পরিত্যক্ত পোড়া তেলের দোকানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে দোকানটি পোড়া তেলের ব্যবসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত হলেও, আড়ালে সেখানে বড় বড় আধারে (ট্যাঙ্কে) মজুদ করা হচ্ছিল তাজা জ্বালানি তেল। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তারা যখন ওই স্থানে পৌঁছান, তখন সেখানে মজুদের বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে পান। তবে আভিযানিক দল পৌঁছানোর আগেই অসাধু চক্রের সদস্যরা গা ঢাকা দিতে সক্ষম হয়।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (জেলা বিচারক পর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা) সৈয়দ মাহবুবুল হক এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযানটি দীর্ঘ সময় ধরে চলেছে। তিনি বলেন, “আমরা সেখানে মাটির নিচে ও উপরে বসানো বড় বড় বিশাল পাত্রে মজুত করা বিপুল পরিমাণ তেলের সন্ধান পেয়েছি। অবৈধভাবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি রাখা হয়েছিল যাতে সুযোগ বুঝে তা চড়া দামে বাজারে ছাড়া যায়।” তবে ঘটনাস্থল থেকে এখন পর্যন্ত কাউকে সরাসরি আটক করা সম্ভব না হলেও চক্রটির মূল হোতাদের শনাক্ত করার কাজ চলছে বলে তিনি জানান।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে এক ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে দেশের ভেতরে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী তেলের কৃত্রিম অভাব তৈরি করার চেষ্টা করছে। 

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সরাসরি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সাংবাদিকদের জানান, এই অবৈধ মজুদের পেছনে যাদের হাত রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “প্রাথমিক অনুসন্ধানে আমরা দুজনের নাম পেয়েছি। তাদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে (যা চোরাচালান ও কালোবাজারি দমনে ব্যবহৃত কঠোর আইন) মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে। তবে মামলার আগে আমরা সুনিশ্চিত হতে চাইছি যে তারা সরাসরি এই মজুদের সাথে জড়িত কি না।”

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা মঈনুল হাসান জানিয়েছেন, যারা এই মজুদ গড়ে তুলেছিল তারা মূলত দীর্ঘদিন ধরে পোড়া তেলের ব্যবসার সাথে যুক্ত। এই ব্যবসার আড়ালে তারা অত্যন্ত সুকৌশলে ডিজেল সংগ্রহ করে মজুদ করছিল। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের প্রভাবে যখন বাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশচুম্বী হবে, ঠিক তখনই তারা এই অবৈধ তেল উচ্চমূল্যে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেছিল। উদ্ধারকৃত তেল বর্তমানে জেলা প্রশাসনের জিম্মায় রয়েছে এবং এর গুণগত মান পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হবে।

সীতাকুণ্ডের সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই সাহসী পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এ ধরনের অসাধু ব্যবসায়ীদের কারণেই বাজারে সাধারণ ভোক্তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেবল ফৌজদারহাট নয়, বরং পুরো চট্টগ্রাম জেলা জুড়েই তেলের পাম্প ও গুদামগুলোতে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন তেলের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারিও জোরদার করা হয়েছে।

সংকটকালে মানুষের বিপত্তিকে পুঁজি করে যারা মুনাফা লুটতে চায়, তারা সমাজের শত্রু। জ্বালানি তেলের মতো স্পর্শকাতর পণ্যের অবৈধ মজুদ কেবল অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নাভিশ্বাস তোলে। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ করার মাধ্যমে প্রশাসন অসাধু ব্যবসায়ীদের জন্য একটি কড়া বার্তা পাঠিয়েছে। তবে কেবল মজুদ উদ্ধারই যথেষ্ট নয়, এই সিন্ডিকেটের (অসাধু চক্রের জোট) মূল শিকড় উপড়ে ফেলা এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। নিয়মিত বাজার তদারকি এবং জনগণের সচেতনতাই পারে এ ধরনের কালোবাজারি রুখে দিতে।

এলাকা: চট্টগ্রাম
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

সংকটকে পুঁজি করে অসাধু কারবার: সীতাকুণ্ডে ২৫ হাজার লিটার ডিজেল জব্দ

R
Roksana | 30 March 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার