Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি? জেনে নিন সুস্থ থাকতে কী খাবেন

BNJK
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি? জেনে নিন সুস্থ থাকতে কী খাবেন

Gemini said

সুস্থ ও প্রাণবন্ত থাকতে আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় উপাদানগুলোর মধ্যে ভিটামিন বি-১২ বা কোবালামিন অন্যতম। রক্ত গঠন থেকে শুরু করে স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বজায় রাখতে এই ভিটামিনের কোনো বিকল্প নেই, অথচ অসচেতনতার কারণে অনেকেই এই অতিপ্রয়োজনীয় উপাদানের অভাবে ভুগছেন।

 ভিটামিন বি-১২ একটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন, যা আমাদের শরীর নিজে থেকে তৈরি করতে পারে না; এটি খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করতে হয়। শরীরে এই ভিটামিনের অভাব মূলত দুটি কারণে হতে পারে। প্রথমত, যদি আপনার রক্তস্বল্পতা থাকে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা পেটের সুস্থ কোষগুলো ধ্বংস করে ফেলে, তবে পর্যাপ্ত খাবার খেলেও শরীর ভিটামিন শোষণ করতে পারে না। দ্বিতীয় কারণটি হলো খাদ্যাভ্যাসে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব।

এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে শরীরে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ক্লান্তি, অবসাদ, খিটখিটে মেজাজ, কাজে মনোযোগের অভাব এবং ভুলে যাওয়ার মতো সমস্যাগুলো ভিটামিন বি-১২ এর অভাবের প্রাথমিক লক্ষণ। দীর্ঘমেয়াদী ঘাটতি থাকলে বিষণ্ণতা, মানসিক চাপ এমনকি স্নায়ুতন্ত্রের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে উপসর্গগুলো মৃদু হওয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি শুরুতে বিষয়টি বুঝতে পারেন না, যা পরবর্তীতে জটিল আকার ধারণ করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরামিষাশীদের মধ্যে এই ভিটামিনের ঘাটতি হওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ নিরামিষভোজী এই সমস্যায় ভোগেন, কারণ উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে এই ভিটামিনের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। ঘাটতি মেটাতে তাই প্রাণিজ খাবার খাওয়ার ওপর জোর দেন চিকিৎসকরা।

ভিটামিন বি-১২ এর প্রধান উৎসগুলো হলো:

প্রাণিজ উৎস: মাছ, মাংস, ডিম এবং কলিজা।

দুগ্ধজাত খাবার: দুধ, দই, পনির, ছানা এবং সন্দেশ।

যারা নিরামিষ পছন্দ করেন, তারা সম্পূরক খাবার হিসেবে সয়ামিল্ক (সয়াবিন থেকে তৈরি দুধ), রঙিন সবজি, বাদাম এবং সিরিয়াল (দানাদার শস্য জাতীয় খাবার) গ্রহণ করতে পারেন। তবে দ্রুত ফলাফল পেতে প্রাণিজ আমিষই সবচেয়ে কার্যকর।

বয়সভেদে এই ভিটামিনের চাহিদাও ভিন্ন হয়। যেমন, ৪ থেকে ৮ বছর বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ১.২ মাইক্রোগ্রাম (এক গ্রামের ১০ লক্ষ ভাগের এক ভাগ পরিমাণ ক্ষুদ্র একক) এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ২.৪ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন প্রয়োজন। অন্তঃসত্ত্বা ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের ক্ষেত্রে এই চাহিদা আরও কিছুটা বেশি থাকে।

যদি সুষম খাবার খাওয়ার পরও ত্বক ফ্যাকাশে দেখায়, ঘন ঘন শ্বাসকষ্ট হয় কিংবা চলাফেরায় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়, তবে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। সাধারণত রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঘাটতি নির্ণয় করা হয় 

 আধুনিক জীবনযাত্রায় আমরা অনেক সময় মুখরোচক খাবারের পেছনে ছুটতে গিয়ে শরীরের অতিপ্রয়োজনীয় পুষ্টির কথা ভুলে যাই। ভিটামিন বি-১২ এর অভাব কেবল শারীরিক ক্লান্তি নয়, বরং আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যকেও খাদের কিনারে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে যারা কেবল উদ্ভিদজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল, তাদের এই বিষয়ে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। মনে রাখবেন, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন এবং সচেতনতা আমাদের একটি রোগমুক্ত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ উপহার দিতে পারে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
বাংলাদেশ

শরীরে ভিটামিন বি-১২ এর ঘাটতি? জেনে নিন সুস্থ থাকতে কী খাবেন

B
BNJK | 06 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার