রাজধানীর উত্তরা এলাকায় একটি বাসা থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী সাবিত মাহমুদ শাওনের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মেধাবী এই তরুণের আকস্মিক মৃত্যুতে তার সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজধানীর তুরাগ থানা পুলিশ আজ শুক্রবার সকালে উত্তরার একটি বাসভবন থেকে সাবিত মাহমুদ শাওনের মরদেহ উদ্ধার করে। সাবিত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ৪৪তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি আত্মহত্যার ঘটনা হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
সাবিতের সহপাঠী ও ঘনিষ্ঠজনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি প্রচণ্ড মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। ইংরেজি বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ কাজল মিয়া জানান, সাবিত মানসিকভাবে বেশ বিপর্যস্ত ছিলেন। এমনকি মৃত্যুর আগে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বেশ কিছু অস্বাভাবিক ও উদ্বেগজনক বার্তা (পোস্ট) দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকেই তার মৃত্যুর খবরটি সহপাঠীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে, যা শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে স্তব্ধতা নামিয়ে আনে।
ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো থেকে আরও জানা যায়, ব্যক্তিগত ও দাম্পত্য জীবনে বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন সাবিত। সম্প্রতি তার বিবাহবিচ্ছেদ ঘটেছিল বলে জানা গেছে। প্রিয়জনদের ধারণা, জীবনের এই কঠিন পরিবর্তনটি তিনি সহজভাবে নিতে পারেননি এবং প্রবল হতাশায় (ডিপ্রেশন) নিমজ্জিত হয়েছিলেন। বন্ধুদের ধারণা অনুযায়ী, শুক্রবার ভোররাত ৩টা থেকে ৪টার মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে তিনি জীবনের চরম সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করে থাকতে পারেন।
উত্তরা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মেধাবী এই শিক্ষার্থীর এমন বিদায়ে তারা মর্মাহত। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং মৃত্যুর পেছনের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। পারিবারিক কোনো অভিযোগ আছে কি না, সে বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
একটি উচ্চশিক্ষিত ও মেধাবী প্রাণের এভাবে ঝরে পড়া সমাজের জন্য বড় ধরনের সতর্কসংকেত। বিবাহবিচ্ছেদ বা ব্যক্তিগত জীবনের টানাপোড়েন একজন মানুষকে কতটা নিঃসঙ্গ ও বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে, সাবিতের এই অকাল মৃত্যু তারই প্রতিফলন। আমাদের সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার সময় এসেছে। বিষণ্নতা বা হতাশার মুহূর্তে প্রিয়জনদের পাশে থাকা এবং যথাযথ মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে হয়তো এমন অনেক অকাল মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতো।