প্রবাসী ফুটবলার রোনান সুলিভানের পায়ের জাদুতে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানকে হারিয়ে স্বপ্নের মতো শুরু করেছে বাংলাদেশ। মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘বি’ গ্রুপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে সেমিফাইনালের পথে অনেকটা এগিয়ে গেল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ প্রতিবেদন: মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আজ শুরু থেকেই ছিল বাংলাদেশের একচ্ছত্র আধিপত্য। ম্যাচের প্রথমার্ধে বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে জালের দেখা পাচ্ছিল না মার্ক কক্সের শিষ্যরা। গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যাওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। মধ্যমাঠে ইব্রাহিম নেওয়াজ ও মোরশেদ আলীদের দুর্দান্ত পাসিং ফুটবল পাকিস্তানকে কোণঠাসা করে ফেলে।
ম্যাচের ডেডলক (অচলাবস্থা) ভাঙেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী তরুণ ফরোয়ার্ড রোনান সুলিভান। ৫৪ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার এক বুলেট গতির ফ্রি-কিক সরাসরি খুঁজে নেয় পাকিস্তানের জাল। অভিষেক ম্যাচেই এমন দর্শনীয় গোল স্টেডিয়ামে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের উল্লাসে ভাসিয়ে দেয়। উল্লেখ্য, রোনান বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নামী লিগ মেজর লিগ সকারের দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের বয়সভিত্তিক দলের হয়ে মাঠ মাতাচ্ছেন।
গোল হজম করে ম্যাচে ফেরার মরিয়া চেষ্টা চালায় পাকিস্তান। ৬১ মিনিটে তারা বাংলাদেশের জালে বল জড়ালেও গোলরক্ষককে ফাউল করার দায়ে রেফারি তা নাকচ করে দেন। এরপরই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ৬৭ মিনিটে সতীর্থ শেখ সংগ্রামের নিখুঁত এক লম্বা পাস (লং পাস) থেকে দর্শনীয় হেডে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন রোনান। ম্যাচের বাকিটা সময় পাকিস্তান আর ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেনি।
নির্ধারিত সময়ের পর অতিরিক্ত ৭ মিনিটেও ব্যবধান কমানোর কোনো পথ খুঁজে পায়নি পাকিস্তান। ম্যাচ শেষে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের সঙ্গে জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন বাংলাদেশের ফুটবলাররা। যদিও রোনানের ভাই ডেক্লান সুলিভান স্কোয়াডে থাকলেও এই ম্যাচে তার অভিষেক হয়নি। এই জয়ের ফলে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালের পথে এক পা দিয়ে রাখল বাংলাদেশ। আগামী ২৮ মার্চ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শক্তিশালী ভারতের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
সমাপনী বিশ্লেষণ: বিদেশের মাটিতে বেড়ে ওঠা ফুটবলারদের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করার যে পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন করছে, রোনান সুলিভানের এই পারফরম্যান্স তাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। কেবল প্রবাসী কোটা নয়, দক্ষতার বিচারেও যে তারা দেশীয় ফুটবলে নতুন প্রাণের সঞ্চার করতে পারেন, তা আজ প্রমাণিত। তবে কেবল ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের ওপর নির্ভর না করে দলগত সংহতি বজায় রাখতে পারলে শিরোপা ধরে রাখা অসম্ভব কিছু নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয় কেবল একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং টুর্নামেন্টের বাকি দলগুলোর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এক কড়া সতর্কবার্তা।