দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বমঞ্চে অধরা সোনালি ট্রফি। ২০০২ সালের সেই সোনালি সাফল্যের পর বারবার স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে সেলেসাওদের। তবে ব্রাজিলের কিংবদন্তি অধিনায়ক কাফু বিশ্বাস করেন, উত্তর আমেরিকায় অনুষ্ঠিতব্য আগামী বিশ্বকাপেই হেক্সা বা ষষ্ঠ শিরোপা জয়ের আক্ষেপ ঘুচবে সাম্বার দেশের।
১৯৯৪ থেকে ২০০২—টানা তিনটি বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলে ফুটবল বিশ্বে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল ব্রাজিল। এর মধ্যে দুইবার বিশ্বজয়ীর স্বাদ পাওয়া কাফুর নেতৃত্বে ২০০২ সালে সর্বশেষ পঞ্চমবারের মতো শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল তারা। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ২৪ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে ব্রাজিল কেবল একবারই সেমিফাইনালের মুখ দেখেছে। বর্তমানে দলের নড়বড়ে পারফরম্যান্স নিয়ে অনেক সমর্থকই যখন হতাশ, তখন আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখছেন কাফু।
মাদ্রিদে গতরাতে লরিয়াস অ্যাওয়ার্ডস (বিশ্ব ক্রীড়া পুরস্কার) অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাফু বলেন, ‘শেষ শিরোপা জয়ের পর ২৪ বছর পেরিয়ে গেছে। আমি মনে করি, এবারের বিশ্বকাপটি ব্রাজিলের জন্য বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার একদম সঠিক সময়।’
ব্রাজিলের বর্তমান দলে একজন দক্ষ কোচ আসায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সাবেক এই ফুটবল তারকার। তিনি মনে করেন, কার্লো আনচেলত্তির মতো একজন অভিজ্ঞ ও শিরোপাজয়ী কোচ ব্রাজিল দলের মর্যাদা ও শক্তি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেবেন। কাফু আরও যোগ করেন যে, ব্রাজিলের আক্রমণভাগ এবং মাঝমাঠ বরাবরই শক্তিশালী ছিল। আনচেলত্তি এখন রক্ষণভাগকে জমাট বাঁধার দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন। কাফুর সোজাসাপ্টা যুক্তি হলো—যদি ব্রাজিল গোল না খায়, তবে তাদের যে আক্রমণভাগ আছে, তাতে প্রতি ম্যাচেই অন্তত একটি গোল তারা আদায় করে নেবেই।
দলের বর্তমান তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রকে নিয়েও উচ্চাশা পোষণ করেছেন তিনি। মাঠে ও মাঠের বাইরে নানা বিতর্কে থাকা এই ফরোয়ার্ডের জন্য বিশ্বকাপই নিজেকে প্রমাণের সেরা মঞ্চ বলে মনে করেন কাফু। তার মতে, ফাইনালে ওঠার পথে প্রতিটি ম্যাচে ভিনিসিউস বিশ্বকে দেখিয়ে দিতে পারবেন তিনি কতটা মূল্যবান। সম্প্রতি ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে জয় এবং সেখানে ভিনিসিউসের অবদান ভক্তদের সংশয় অনেকটাই দূর করেছে।
একই সঙ্গে তরুণ প্রতিভা এন্দরিকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন সাবেক এই রাইট-ব্যাক (রক্ষণভাগের ডান প্রান্তের খেলোয়াড়)। রিয়াল মাদ্রিদ এন্দরিককে ধারে পাঠিয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তাকে সঠিক বলেই মনে করছেন তিনি। কাফুর মতে, অন্য দলে গিয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়ায় ১৯ বছর বয়সী এই তরুণ নিজেকে পরিণত করার সুযোগ পেয়েছেন। রিয়ালের মতো বড় দলে ফিরে এসে তিনি এখন ব্রাজিলের জন্য বড় সম্পদে পরিণত হতে পারেন।
যদিও বাজিকরদের তালিকায় বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন সবার শীর্ষে রয়েছে, তবে কাফু মনে করেন, ব্রাজিল তার হারানো গৌরব ফিরে পেতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
পরিসংখ্যান ও মাঠের লড়াইয়ে ব্রাজিল বর্তমানে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও কাফুর মতো অভিজ্ঞদের আশা সমর্থকদের মনে নতুন করে স্বপ্ন জাগায়। ২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা কি তবে সত্যিই উত্তর আমেরিকার মাটিতে শেষ হতে চলেছে? ফুটবলের অনিশ্চয়তা আর ব্রাজিলের প্রতিভাধর খেলোয়াড়দের সমন্বয় ঘটলে ‘হেক্সা’ জয় অসম্ভব কিছু নয়। তবে তার জন্য মাঠের ফুটবলে কৌশল আর মানসিক শক্তির মেলবন্ধন ঘটানোই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।