ফুটবল বিশ্বের অন্যতম মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো আরও একবার প্রমাণ করলেন যে, বয়স তার কাছে কেবল একটি সংখ্যা মাত্র। ৪১ বছর বয়সে পা দিলেও মাঠের লড়াই ছাড়ার কোনো চিন্তাই নেই তার; বরং নতুন লক্ষ্য হিসেবে ২০৩০ বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বুনছেন এই পর্তুগিজ কিংবদন্তি।
পর্তুগালের হয়ে অসংখ্য ইতিহাস গড়া এই ফুটবলারের গোল করার নেশা যেন কিছুতেই কমছে না। সম্প্রতি প্রভাবশালী ব্রিটিশ সাংবাদিক পিয়ার্স মরগানকে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে রোনালদো তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বড় বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসা এবং শারীরিক সক্ষমতা এখনো তুঙ্গে রয়েছে। মানসিক ও শারীরিকভাবে তিনি এতটাই চাঙ্গা বোধ করছেন যে, আরও বেশ কয়েক বছর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দাপিয়ে বেড়ানোর বিষয়ে তিনি যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী।
রোনালদোর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সম্ভাব্য সব শিরোপা যোগ হলেও এখনো অধরা রয়ে গেছে সোনালী ট্রফিটি (বিশ্বকাপ)। দেশের হয়ে একটি বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নই তাকে এই বয়সেও অবিরাম পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করছে। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপকে অনেকে তার শেষ আসর বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু সেই ধারণা পাল্টে দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া তো প্রায় নিশ্চিত, এখন তিনি নজর দিচ্ছেন ২০৩০ সালের দিকেও।
নিজের শারীরিক অবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে রোনালদো সবসময়ই বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। সাক্ষাৎকারে হাসিমুখে তিনি মন্তব্য করেন যে, যদি শরীর সায় দেয় তবে তিনি ৫০ বছর বয়স পর্যন্তও খেলা চালিয়ে যেতে পারেন। যদিও এটি একটি প্রতীকী কথা, তবে এর মাধ্যমে তার অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং ফিটনেসের (শারীরিক সক্ষমতা) প্রতি গভীর আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে। ফুটবল বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রোনালদোর মতো কঠোর পরিশ্রমী ক্রীড়াবিদের পক্ষে দীর্ঘ সময় নিজেকে শীর্ষ পর্যায়ে টিকিয়ে রাখা অসম্ভব কিছু নয়।
আগামী ২০২৬ বিশ্বকাপে পর্তুগাল খেলবে ‘কে’ গ্রুপে। যেখানে তাদের মোকাবিলা করতে হবে ডিআর কঙ্গো, উজবেকিস্তান এবং কলম্বিয়ার মতো দলগুলোর। অভিজ্ঞ ও তরুণদের সমন্বয়ে গড়া পর্তুগাল দলটিকে এখন থেকেই এই গ্রুপের অন্যতম ফেবারিট (শীর্ষ শক্তি) হিসেবে ধরা হচ্ছে। ভক্তদের আশা, রোনালদো তার অভিজ্ঞতা দিয়ে দলকে বড় সাফল্যে নিয়ে যাবেন।
রোনালদো বর্তমানে যে ফর্মে রয়েছেন, তাতে পর্তুগাল দলের মূল একাদশে তার উপস্থিতি দলের আত্মবল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। গোল করার অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারলে ২০৩০ সালেও সবুজ ঘাসের গালিচায় সিআর সেভেনের জাদুকরী ফুটবল দেখার প্রত্যাশা করতেই পারেন তার কোটি ভক্ত।
একজন ক্রীড়াবিদের জন্য ৪১ বছর বয়স মানে সাধারণত অবসরের সময়। কিন্তু রোনালদো ব্যতিক্রম। তার এই জেদ এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা তরুণ প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা। তবে প্রশ্ন থেকেই যায়, ২০৩০ সালে ৪৫ বছর বয়সে পৌঁছানোর পর প্রতিযোগিতামূলক ফুটবলের যে তীব্র গতি ও শারীরিক চাপ, তা তিনি সামলাতে পারবেন কি না। ফুটবলের সৌন্দর্যই হয়তো এমন অনিশ্চয়তার মাঝে লুকিয়ে থাকে, যেখানে একজন কিংবদন্তি শেষ পর্যন্ত অসম্ভবকে সম্ভব করার লড়াই চালিয়ে যান।