শক্তির বিচারে যোজন যোজন পিছিয়ে থাকলেও মাঠে তার বিন্দুমাত্র ছাপ পড়তে দেয়নি আইভরি কোস্ট। চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির চোখে চোখ রেখে লড়াই করে চমক জাগিয়েছিল তারা। একপর্যায়ে তো জয়ের স্বপ্নও বুনতে শুরু করেছিল আফ্রিকার দলটি। কিন্তু বদলি হিসেবে মাঠে নেমে সব হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিলেন ডেনিস উন্দাভ। তার জাদুকরি জোড়া গোলে ভর করে ২-১ ব্যবধানের রোমাঞ্চকর জয়ে নকআউট পর্ব (শেষ ষোলো) নিশ্চিত করেছে ইউলিয়ান নাগেলসমানের দল।
শনিবার কানাডার টরন্টো স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের এই শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইটি অনুষ্ঠিত হয়। এই জয়ের মাধ্যমে ২০১৪ সালে চতুর্থ শিরোপা জয়ের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে পা রাখল জার্মানরা। গত দুই আসরে হতাশার গ্রুপ পর্ব থেকেই তাদের বিদায় নিতে হয়েছিল। এছাড়া, ২০০৬ সালের পর এই প্রথম কোনো বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচেই জয়ের দেখা পেল ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি এই দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে খেলা জমে ওঠে। বল দখলের লড়াইয়ে জার্মানি এগিয়ে থাকলেও, প্রথম চমকটি দেখায় আইভরি কোস্ট। ম্যাচের ৩০তম মিনিটে দারুণ এক বিল্ডআপ থেকে লিড নেয় তারা। বাঁ দিক থেকে ইয়ান ডিওমান্ডের পাস থেকে বল পেয়ে শট নেন আমাদ জিয়ালো। জার্মান ডিফেন্ডার (রক্ষণভাগের খেলোয়াড়) তা আটকে দিলেও ফিরতি বলে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান সাবেক বার্সেলোনা মিডফিল্ডার ফঁক কেসিয়ে। এই গোলের মাধ্যমে কিংবদন্তি দিদিয়ের দ্রগবার পর দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ আইভরিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপে গোল করার অনন্য কীর্তি গড়েন তিনি। প্রথমার্ধে কাই হাভার্টজ ও জামাল মুসিয়ালা বেশ কয়েকটি সুযোগ পেলেও জার্মানরা জালের দেখা পায়নি।
দ্বিতীয়ার্ধে মরিয়া হয়ে ওঠে জার্মানি। ম্যাচের ৬০তম মিনিটে মুসিয়ালার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ২৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ডেনিস উন্দাভ। মাঠে নামার আট মিনিটের মাথাতেই নাদিম আমিরির ক্রসে (উড়ে আসা বল) দারুণ এক ভলিতে দলকে সমতায় ফেরান তিনি। নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে আইভরি কোস্টের সিমোঁ আদিঙ্গা একটি সহজ সুযোগ নষ্ট করলে জয় বঞ্চিত হয় আফ্রিকার দলটি।
এরপর নাটকীয়তার চূড়ান্ত রূপ দেখা যায় যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে। ফিলিক্স মেচার পাস থেকে ডি-বক্সের ভেতর দারুণ দক্ষতায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাঁ পায়ের নিখুঁত শটে জার্মানির জয়সূচক গোলটি করেন সেই উন্দাভ। প্রথম ম্যাচেও বদলি হিসেবে নেমে এক গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট (গোল করতে সহায়তা) করেছিলেন তিনি।
পুরো ম্যাচে প্রায় ৬০ শতাংশ সময় বল নিজেদের পায়ে রেখে ১৬টি শট নেয় জার্মানি, যার সাতটি ছিল লক্ষ্যে (অন টার্গেট)। অন্যদিকে, আইভরি কোস্টের ৯টি শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল। এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে জার্মানি। সমান ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আছে আইভরি কোস্ট। আগামী বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় গ্রুপের শেষ ম্যাচে জার্মানির প্রতিপক্ষ একুয়েডর এবং আইভরি কোস্ট লড়বে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।