ইংলিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী আসর এফএ কাপে এক অবিস্মরণীয় কীর্তি গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। সাউদাম্পটনকে হারিয়ে ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে টানা চারবার এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠার গৌরব অর্জন করেছে পেপ গার্দিওলার শিষ্যরা। এক গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের অদম্য লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়ে মাঠ ছাড়ে সিটিজেনরা।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) লন্ডনের বিখ্যাত ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সেমিফাইনাল (ফাইনালে ওঠার আগের লড়াই) ম্যাচে সাউদাম্পটনকে ২-১ গোলে পরাজিত করে ম্যানচেস্টার সিটি। পুরো ম্যাচ জুড়ে বলের দখল এবং আক্রমণে একক আধিপত্য বজায় রাখলেও সিটির জয়টি এসেছে বেশ নাটকীয়ভাবে। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে খেলার মোড় বারবার ঘুরেছে। শেষ পর্যন্ত জেরেমি ডকু এবং নিকো গঞ্জালেসের দুর্দান্ত দুটি গোলে জয় নিশ্চিত করে ম্যানসিটি।
ম্যাচের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সিটিজেনদের আক্রমণের তোড়ে সাউদাম্পটন ছিল প্রায় দিশেহারা। পুরো ম্যাচে ৬৯ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিলেন রদ্রি-ডি ব্রুইনারা। তারা প্রতিপক্ষের গোলমুখে মোট ২৪টি শট নেয়, যার মধ্যে ৬টি ছিল লক্ষ্যভেদী। অন্যদিকে, সাউদাম্পটন মাত্র ৪টি শট নেওয়ার সুযোগ পেলেও তার ৩টিই ছিল গোল হওয়ার মতো বিপদজনক।
খেলার ধারার বিপরীতে ৭৯ মিনিটে গোল করে পুরো স্টেডিয়ামকে স্তব্ধ করে দেয় সাউদাম্পটন। মাঝমাঠ থেকে প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে ওঠে তারা। সতীর্থদের পা ঘুরে বল আসে ফিন এজাজের কাছে। ডি-বক্সের (গোলরক্ষকের চারপাশের চিহ্নিত এলাকা) বাইরে থেকে শরীরটা ঘুরিয়ে চমৎকার এক উঁচু শটে লক্ষ্যভেদ করেন এই ইংলিশ মিডফিল্ডার। পিছিয়ে পড়ে পরাজয়ের শঙ্কায় পড়লেও লক্ষ্যচ্যুত হয়নি সিটিজেনরা।
গোলের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে মাত্র তিন মিনিট সময় নেয় ম্যানচেস্টার সিটি। ৮২ মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জেরেমি ডকু জোরাল শট নিলে তা প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। সমতায় ফিরে আক্রমণের ধার আরও বাড়িয়ে দেয় গার্দিওলার দল। অবশেষে ৮৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলের দেখা পায় তারা। নিকো গঞ্জালেসের এক দূরপাল্লার বুলেট গতির শট প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে পরাস্ত করলে জয় নিশ্চিত হয় সিটিজেনদের।
এই জয়ের মাধ্যমে ম্যানচেস্টার সিটি কেবল ফাইনালই নিশ্চিত করেনি, বরং এফএ কাপের দীর্ঘ ইতিহাসে টানা চারবার ফাইনাল খেলার এক অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছে। শিরোপার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে চেলসি ও লিডস ইউনাইটেডের মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য অপর সেমিফাইনাল জয়ী দলের বিপক্ষে।
ম্যানচেস্টার সিটির এই জয় কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়, বরং এটি তাদের ধারাবাহিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ। ফুটবল বিশ্বে যখন কোনো বড় দলের হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন সেখান থেকে ফিরে আসাটাই বড় দলের পরিচয়। সাউদাম্পটনের মতো অপেক্ষাকৃত ছোট দলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও যে মানসিক দৃঢ়তা সিটিজেনরা দেখিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। পেপ গার্দিওলার কৌশল এবং খেলোয়াড়দের মাঠের পারফরম্যান্স ফুটবলপ্রেমীদের মনে করিয়ে দিচ্ছে যে, আধুনিক ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত হার মানার কোনো সুযোগ নেই।