সারা দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে অবনতি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই এডিস মশাবাহিত এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৫০ জন রোগী। আজ রোববার (১২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম (জরুরি স্বাস্থ্য তথ্য নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছে বরিশাল বিভাগে। এই বিভাগে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৯৫ জন। এর পরেই রয়েছে খুলনা বিভাগ, যেখানে ৭০ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন (পৌর সংস্থা) এলাকাতেও ডেঙ্গুর সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ৫৩ জন এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ৪৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশন এলাকা বাদে) ৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৭ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, রংপুর বিভাগে একজন এবং সিলেট বিভাগে চারজন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে চলতি বছরে দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫ জনে। মৃতদের লিঙ্গভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ এবং ১৩ জন নারী। নারী ও পুরুষের মৃত্যুর এই অনুপাত নির্দেশ করে যে, ডেঙ্গুর প্রকোপ সবার জন্যই সমান ঝুঁকিপূর্ণ।
চলতি জুলাই মাসে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। জুলাই মাসের প্রথম ১২ দিনেই ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে সাত জনে। এর আগে মে মাসে একজন এবং জুন মাসে বছরের সর্বোচ্চ ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া বছরের শুরুতে জানুয়ারি মাসে দুই জন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে দুই জনের মৃত্যু হয়। তবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৩২৩ জনে। চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৭ হাজার ৫৭০ জন রোগী। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন শত শত রোগী।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি। বাড়ি ও এর আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং মশার কামড় থেকে বাঁচতে সচেতনতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।