চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, যেখানেই দুর্নীতি কিংবা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যাবে, সেখানে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে কেবল বদলি নয়, সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে।
শনিবার দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে ‘নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির’ (বহুমূত্র রোগাক্রান্তদের কল্যাণ সমিতি) ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি বদলি বা স্থানান্তরের নীতিতে বিশ্বাস করি না। অবহেলা কিংবা দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেলে সরাসরি চাকরিচ্যুতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সবাইকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করতে হবে। চিকিৎসাসেবা নিয়ে কোনো ধরনের ঘুষ-বাণিজ্য কিংবা অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং এ ক্ষেত্রে আমরা কোনো ধরনের প্রশ্রয় দেব না।"
দেশের স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের দূরদর্শী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি সরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় হাসপাতালে (মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) অতি দ্রুত ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস (কৃত্রিম উপায়ে রক্ত পরিশোধন প্রক্রিয়া) কেন্দ্র চালু করা হবে। এর ফলে কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রান্তিক রোগীরা অত্যন্ত স্বল্প ব্যয়ে আধুনিক চিকিৎসা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করার ঘোষণা দিয়ে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে (তৃণমূল স্বাস্থ্যকেন্দ্র) সংস্কারের মাধ্যমে সম্পূর্ণ নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে। খুব শিগগিরই এসব স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক নতুন চিকিৎসক এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও উন্নতমানের সেবাকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে।
চলতি বছরের মধ্যেই দেশের স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান ও যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, "আমরা এ বছরেই চিকিৎসাসেবা খাতে একটি নীরব বিপ্লবের সূচনা করতে যাচ্ছি। প্রতিটি স্তরে নতুন নতুন জনবান্ধব কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া যায় এবং বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।"
চলতি বছরের বাজেটকে (সরকারি আয়-ব্যয়ের হিসাব) একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী ও আদর্শ বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, এই বাজেটের প্রতিটি বরাদ্দ যাতে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ উপায়ে জনগণের কল্যাণে বাস্তবায়িত হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মনজুর এলাহী, নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল এবং নরসিংদীর জেলা পরিষদের প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন। এ ছাড়াও সভায় স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।