সারা দেশের ২ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব থেকে রক্ষা করতে এবং তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আজ রোববার (২৮ জুন) দেশজুড়ে একযোগে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন (বিশেষ স্বাস্থ্য অভিযান) শুরু হয়েছে। সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া এই কর্মসূচি কোনো বিরতি ছাড়াই বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দেশের প্রতিটি অঞ্চল ও প্রত্যন্ত গ্রামে অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই জীবন রক্ষাকারী ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
জাতীয় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে সকাল ১০টায় রাজধানীর শাহবাগের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে (সম্মেলন কেন্দ্র)। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিশুদের মুখে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল তুলে দিয়ে এই ক্যাম্পেইনের শুভ সূচনা করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে দেশজুড়ে মোট ১ লাখ ২০ হাজার স্থায়ী টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন, লঞ্চঘাট এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ৫০০টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে ভ্রমণরত বা পথশিশুরাও এই পুষ্টির আওতা থেকে বঞ্চিত না হয়।
আন্তর্জাতিক শিশু তহবিল বা ইউনিসেফের (জাতিসংঘের বিশেষায়িত শিশু সংস্থা) সার্বিক সহায়তায় সংগৃহীত মোট ৪ লাখ নীল রঙের এবং ২ কোটি ২০ লাখ লাল রঙের ভিটামিন ক্যাপসুল এরই মধ্যে দেশের প্রতিটি বিতরণ কেন্দ্রে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশুদের বয়সভেদে দুই ধরনের ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। প্রথমত, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে কম ক্ষমতাসম্পন্ন নীল রঙের ক্যাপসুল এবং দ্বিতীয়ত, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন লাল রঙের ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে।
কোনো শিশু যদি বিশেষ কোনো কারণে আজকের মূল কর্মসূচির দিনে ক্যাপসুল খাওয়া থেকে বাদ পড়ে, তবে তাদের অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পরদিন অর্থাৎ ২৯ জুন নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ক্যাপসুল খাওয়াতে পারবেন। এ ছাড়া দেশের ১২টি জেলার ৫৮টি অত্যন্ত দুর্গম ও পাহাড়ি উপজেলায় ক্যাম্পেইনের পরবর্তী চার দিনও এই বিশেষ ক্যাপসুল বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ফলে চরাঞ্চল কিংবা দুর্গম পাহাড়ি এলাকার কোনো শিশুই এই পুষ্টি উপাদান থেকে বঞ্চিত হবে না বলে আশা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোনো শিশু যদি তীব্র বা জটিল রোগে আক্রান্ত না থাকে, তবে সব শিশুই অত্যন্ত নিরাপদভাবে এই ক্যাপসুল খেতে পারবে। তবে খালি পেটে শিশুকে কোনো অবস্থাতেই ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না, তাই বাড়ি থেকে ভরা পেটে শিশুকে কেন্দ্রে নিয়ে আসার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসকেরা আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ক্যাপসুল খাওয়ানোর পাশাপাশি শিশুর জন্মের পর প্রথম ছয় মাস শুধুমাত্র মায়ের দুধ এবং ছয় মাস পূর্ণ হলে মায়ের দুধের পাশাপাশি ঘরে তৈরি সুষম পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার অভ্যাস নিশ্চিত করতে হবে।