দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের সংক্রমণ। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৮০ জন এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন এবং একজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা জনমনে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করছে।
দেশে হাম পরিস্থিতির সবশেষ অবস্থা নিয়ে শনিবার (১১ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। সেখানে জানানো হয়েছে, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০ জন রোগী। এই সময়ের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া একজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে আরও একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, যাকে সন্দেহজনক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বর্তমানে দেশে হাম পরিস্থিতি বেশ জটিল রূপ ধারণ করছে। গত চব্বিশ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮৮ জনে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ১৪৫ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এর মধ্যে উন্নত পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, অন্তত ২৪ জন সরাসরি হামের কারণেই মৃত্যুবরণ করেছেন।
অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, এখন পর্যন্ত দেশে হামে আক্রান্ত মোট রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৮৯ জনে পৌঁছেছে। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৪৬৩ জন। তবে আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে একটি বড় অংশ চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন। এখন পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়া সুস্থ রোগীর সংখ্যা ৭ হাজার ২২ জন।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শিশুদের আক্রান্ত করে। এর প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে তীব্র জ্বর, কাশি, সর্দি এবং শরীরে লালচে দানা দেখা দেয়। সঠিক সময়ে টিকা গ্রহণ এবং আক্রান্ত রোগীকে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন করা হলে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হলেও প্রান্তিক পর্যায়ে সচেতনতার অভাব পরিস্থিতিকে আরও ঘনীভূত করছে।
হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বিপুল সংখ্যক আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিটি পরিবারকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অস্বাভাবিক উপসর্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায় এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা কঠিন হয়ে পড়বে।