Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দেশে হামে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০২ ছাড়াল

Roksana
29 August 2026, 01:59 AM পড়তে ১ মিনিট
দেশে হামে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০২ ছাড়াল

দেশে হাম রোগের প্রকোপ ক্রমশ আশঙ্কাজনক রূপ নিচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে ল্যাবরেটরিতে (পরীক্ষাগার) নিশ্চিত হওয়া হাম এবং এর উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০২ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১০৭ জনের শরীরে সংক্রামক এই রোগটি শনাক্ত হয়েছে।

শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম সংক্রান্ত নিয়মিত বুলেটিনে (তথ্য বিবরণী) এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৯৩ জন। এছাড়া সন্দেহজনক হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬০৯ জন শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এই বিভাগে এ পর্যন্ত ২৬৩ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাজশাহী বিভাগে ৮৮, সিলেটে ৭৭, চট্টগ্রামে ৫১, ময়মনসিংহে ৫৬, বরিশালে ৩৯, খুলনায় ২৭ এবং রংপুর বিভাগে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বুলেটিনে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে ৮৬৯ জন রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য এসেছেন। তাদের মধ্যে ৭৮৬ জনকে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতালে নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৭৯ জন, চট্টগ্রামে ১৮৫, বরিশালে ১২১, সিলেটে ৬৪, খুলনায় ৪৫, রাজশাহীতে ৪২, ময়মনসিংহে ৩৯ এবং রংপুর বিভাগে ১১ জন রয়েছেন।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সারাদেশে ৮১ হাজার ২৮৩ জন হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন ৭৭ হাজার ৬১৩ জন। বর্তমানে দেশে মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭ হাজার ৫২২ জনে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৫৪৯ জন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত (অণুজীবজনিত) রোগ, যা মূলত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। সঠিক সময়ে হাম-রুবেলা বা এমআর (হাম ও জার্মান হাম প্রতিরোধী) টিকা না নেওয়া এবং সচেতনতার অভাবে রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। আক্রান্ত শিশুর উচ্চ জ্বর, সর্দি, কাশি এবং শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই রোগ দ্রুত জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সব সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় শিশুদের বিনামূল্যে এই টিকা দেওয়া হয়ে থাকে। ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস পূর্ণ হলে দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। কোনো শিশু যদি নিয়মিত কর্মসূচির আওতায় এই টিকা থেকে বাদ পড়ে থাকে, তবে তাকে অবিলম্বে নিকটবর্তী কেন্দ্রে নিয়ে টিকা দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি জোর আহ্বান জানানো হয়েছে। এই রোগ নিয়ন্ত্রণে মাঠ পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

দেশে হামে আরো ৪ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০২ ছাড়াল

R
Roksana | 26 June 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার