দেশে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে হামের প্রাদুর্ভাব। গত চব্বিশ ঘণ্টায় হাম এবং এই রোগের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে আরও সাতটি শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে, যা জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেশের এই উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ৮ এপ্রিল সকাল ৮টা থেকে ৯ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই প্রাণহানির ঘটনাগুলো ঘটেছে। বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে অধিদপ্তর জানিয়েছে যে, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৩ জন শিশুর। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ২৩ জন।
গত একদিনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সন্দেহজনক হাম নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ১৮৭ জন শিশু। এদের মধ্যে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ৬৪২ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত শিশুদের অনেকের শরীরেই তীব্র জ্বর, লালচে দানা বা র্যাশ (চামড়ায় এক ধরনের ফুসকুড়ি) এবং শ্বাসকষ্টের মতো জটিল উপসর্গ দেখা দিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বর্তমানে দেশে হামে আক্রান্ত মোট শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৪১ জনে। তবে সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা আরও অনেক বেশি, যা প্রায় ৮ হাজার ২৫১ জন। আশার কথা হলো, আক্রান্তদের মধ্যে ৫ হাজার ৮০১ জন শিশু ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে রোগ যা মূলত শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে ছড়ায়। শিশুদের সঠিক সময়ে টিকা না দেওয়া এবং পুষ্টির অভাব এই রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। বর্তমানে চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জেলা হাসপাতালে তিল ধারণের জায়গা নেই। আক্রান্ত শিশুদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা। সরকারের পক্ষ থেকে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করার পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
Closing Analysis: শিশুদের এই অকাল মৃত্যু আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া এবং প্রাণ হারানো কোনোভাবেই কাম্য নয়। টিকাদান কর্মসূচির সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে। আমাদের মনে রাখতে হবে, কেবল সরকারি উদ্যোগ নয়, বরং প্রতিটি পরিবারের সচেতনতাই পারে কোমলমতি শিশুদের এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে।