নরমাল ডেলিভারি বা স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়াকে সহজতর করতে নতুন ওষুধ ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই সেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
শনিবার বিকেলে নরসিংদীর বেলাবো উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক ফ্যামিলি কার্ড (পারিবারিক সহায়তা কার্ড) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রসব বেদনাকে বিলম্বিত করে স্বাভাবিক প্রসব প্রক্রিয়াকে নিরাপদ ও সফল করতে দেশে নতুন প্রযুক্তির ওষুধ আনা হয়েছে। এই সেবা দেশের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে দিতে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হতে যাচ্ছে। নাগরিকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, খুব দ্রুতই দেশের সব মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।
প্রতিবন্ধী নাগরিকদের সহায়তায় সরকারের নেওয়া নতুন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আগামী আট বছরের মধ্যে বাংলাদেশের একজন প্রতিবন্ধীও সরকারি ভাতার বাইরে থাকবে না। আগামী জুলাই মাস থেকে প্রতিবন্ধীদের তালিকাভুক্ত করে ভাতার আওতায় নিয়ে আসার কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে দ্রুত তাদের স্বজনদের নাম নিবন্ধনের জন্য জমা দেওয়ার পরামর্শ দেন।
ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধাভোগী নারীদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী বলেন, সরকার এমন সব উদ্যোগ নিচ্ছে যা সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে কার্ডধারী নারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। অর্থাৎ বছরে একজন নারী এই কার্ডের মাধ্যমে সর্বমোট ৩০ হাজার টাকা সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, এর ফলে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং সংসারে তাদের মর্যাদা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। জামাই বা স্বামীর ওপর আর্থিক নির্ভরতা কমিয়ে নারীদের স্বনির্ভর করে তোলাই সরকারের এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে দেশে বেকারত্বের হার কমে আসবে বলেও অনুষ্ঠানে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী স্থানীয় জনগণের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, তিনি সবসময় মানুষের কল্যাণে কাজ করতে চান। জনসেবার মাধ্যমে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জন করাই তার মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসবকালীন জটিলতা নিরসনে ওষুধ ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এই ঘোষণা একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে ঘোষণার পাশাপাশি এর সঠিক ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে দুর্নীতি রোধ ও সেবার সমবন্টন নিশ্চিত করা গেলে তবেই মা ও শিশু মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া সামাজিক সুরক্ষামূলক এই ফ্যামিলি কার্ডের মতো কর্মসূচিগুলোর সঠিক সুফল যেন প্রকৃত অভাবী মানুষের হাতে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।