দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ভিয়েতনামে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। হাজার মাইলের পথ পাড়ি দিয়ে হ্যানয়ে পৌঁছানোর পর থেকেই তাকে ঘিরে স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে অভূতপূর্ব এক উন্মাদনা।
ইংল্যান্ডের লেস্টার সিটির হয়ে খেলা এই ফুটবল তারকার গত রবিবারই ভিয়েতনাম পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে নিজ ক্লাবের হয়ে খেলার বাধ্যবাধকতা থাকায় কিছুটা বিলম্বে তাকে আসতে হয়েছে। অবশেষে তুরস্কের বিমানে চড়ে গতকাল স্থানীয় সময় বিকেল চারটায় তিনি ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ে পা রাখেন। দীর্ঘ ১৫ ঘণ্টার ক্লান্তিকর বিমান ভ্রমণ সত্ত্বেও দমে যাননি হামজা। হোটেলে পৌঁছে নিজের মালপত্র রাখার পরপরই তিনি সতীর্থদের উৎসাহিত করতে ছুটে যান দলের অনুশীলন মাঠে।
গতকাল বিকেল পাঁচটায় বাংলাদেশ দলের নির্ধারিত অনুশীলন থাকলেও দীর্ঘ ভ্রমণের ধকলের কারণে হামজা মাঠের লড়াইয়ে নামেননি। তবে ডাগআউটে (খেলোয়াড়দের বসার স্থান) বসে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে বেশ কিছুক্ষণ কৌশলগত আলোচনা করতে দেখা গেছে তাকে। বাফুফে (বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন) থেকে পাঠানো এক বার্তায় হামজা জানান, দলের সবার সাথে মিলিত হতে পেরে তিনি ভীষণ আনন্দিত। দীর্ঘ যাত্রাপথে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি থাকলেও তেমন কোনো কষ্ট অনুভব করেননি বলে জানিয়েছেন এই ফুটবলার।
কয়েকদিন আগে ভোগানো চোটের বিষয়ে আশ্বস্ত করে হামজা বলেন, তার হাঁটু এখন সম্পূর্ণ ঠিক আছে এবং তিনি আগের চেয়ে অনেক ভালো বোধ করছেন। দলের সাথে পূর্ণোদ্যমে অনুশীলনে নামতে তিনি মুখিয়ে আছেন। উল্লেখ্য, হামজা মাঠে আসতেই ভিয়েতনামের ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে তাকে ঘিরে দারুণ আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। অনুশীলন শেষে হোটেলে ফেরার পর একদল ভক্ত প্রিয় এই তারকাকে জার্সি উপহার দিয়ে তাদের ভালোবাসা প্রকাশ করেন।
আগামীকাল ভিয়েতনামের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ শেষ করে পরদিনই সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে উড়াল দেবে লাল-সবুজের দল। ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ারা দেশে ফিরলেও হামজা চৌধুরী সেখান থেকেই সরাসরি ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
হামজা চৌধুরীর মতো একজন বিশ্বমানের ফুটবলারের জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের ফুটবলকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি তার অভিজ্ঞতা তরুণ খেলোয়াড়দের কতটা উদ্বুদ্ধ করতে পারে, সেটাই এখন বড় দেখার বিষয়। বিদেশের মাটিতে এই উন্মাদনা প্রমাণ করে যে, ফুটবল এখনো মানুষকে একইভাবে ঐক্যবদ্ধ করতে পারে। আশা করা যায়, হামজার এই উপস্থিতি বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে নতুন কোনো জয়ের গল্প লিখবে।