একের পর এক আক্রমণ, একের পর এক জোরালো শট—কিন্তু কিছুতেই যেন ভাঙা যাচ্ছিল না আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের দেয়াল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা (আন্তর্জাতিক ফুটবল ফেডারেশন) বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেন যেন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে নয়, খেলছিল কেবল আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজের বিপক্ষে। তবে শেষ পর্যন্ত রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের ১০৬ মিনিটে ফাটল ধরল সেই দেওয়ালে। অতিরিক্ত সময়ে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত এক ভলি গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর ইউরোপের পরাশক্তিদের ঘরে উঠল কাঙ্ক্ষিত এই শিরোপা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে (৯০+৩ মিনিটে) আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বড় ধাক্কা খায় আলবিসেলেস্তেরা (আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল)। ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনার বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে পূর্ণ আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে শুরু করে স্পেন। ম্যাচের প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় অর্ধে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
১০৬ মিনিটে ডান দিক থেকে আক্রমণ গড়ে তোলে স্পেন। পেদ্রো পোরোর চমৎকার ক্রস দূরের পোস্টে বুক দিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন নিকো উইলিয়ামস। তিনি অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় বলটি নামিয়ে দেন ডি-বক্সের ভেতর অরক্ষিত থাকা ফেরান তোরেসের সামনে। বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড তোরেস ডান পায়ের নিখুঁত ও জোরালো ভলিতে এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে গোল করা মাত্র পঞ্চম ফুটবলার বনে যান তোরেস। এর আগে ২০১৪ সালে জার্মানির মারিও গ্যোৎসে বদলি হিসেবে ফাইনালে গোল করেছিলেন।
স্পেন গোল পাওয়ার আগে পর্যন্ত আর্জেন্টিনাকে একাই টিকিয়ে রেখেছিলেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। অতিরিক্ত সময়ের ৯৩ মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিশ্চিত হেডার অবিশ্বাস্য দক্ষতায় রুখে দেন তিনি। ৯৬ মিনিটে উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও রেফারি মিকেল মেরিনোর একটি ফাউলের কারণে গোলটি বাতিল করেন, যা নিয়ে মাঠে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এরপর ১০৫ মিনিটে মেরিনোর আরেকটি হেড পোস্টের
সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।
গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে লিওনেল মেসির দল। একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে স্প্যানিশ রক্ষণভাগে কম্পন ধরান মেসি। ১১৫ মিনিটে মেসির একটি বাঁকানো কর্নার সরাসরি জালে ঢুকে যাওয়ার উপক্রম হলেও বল ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ১১৭ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে মেসির নেওয়া একটি(বুলেট) গতির শট নিজের মুখ দিয়ে আটকে দেন স্পেনের মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো। নিজের শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলে মেরিনো দলকে নিশ্চিত গোল হজম থেকে বাঁচিয়ে দেন।
ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে কর্নার থেকে বল পেয়ে সমতা ফেরানোর সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন আর্জেন্টিনার তরুণ ফরোয়ার্ড জুলিয়ানো সিমেওনে। কিন্তু ভারসাম্য হারিয়ে নেওয়া তার শটটি গোলবারের অনেক ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত ১০ জনের আর্জেন্টিনা সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করলেও স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। ফলে ১-০ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বজয়ের উৎসবে মেতে ওঠে স্প্যানিশরা।