বাংলাদেশের শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বড় ধরনের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনিসেফের মাধ্যমে ২ কোটি ১৯ লাখেরও বেশি হাম ও রুবেলার জরুরি প্রতিষেধক টিকা সরবরাহ করবে দেশটি।
বাংলাদেশের শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে সুরক্ষিত রাখতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়কে সরাসরি সহায়তা প্রদান করছে মার্কিন সরকার।
দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বিশাল পরিমাণ টিকা ইউনিসেফের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানো হবে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো দেশের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুকে মরণব্যাধি হাম ও রুবেলার হাত থেকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা প্রদান করা। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই টিকাদান কর্মসূচির প্রধান সুবিধাভোগী হবে।
মার্কিন দূতাবাস তাদের বার্তায় আরও উল্লেখ করেছে, এই পদক্ষেপটি বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের ‘আমেরিকা ফার্স্ট গ্লোবাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি’ (আমেরিকা প্রথম বৈশ্বিক স্বাস্থ্য কৌশল) নামক নীতিমালার একটি অংশ। এই কৌশলের মূল দর্শন হলো, পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে রোগের প্রাদুর্ভাব বা মহামারি প্রতিরোধ করা গেলে তা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশ—উভয়কেই নিরাপদ রাখে। সংক্রামক রোগ যেহেতু ভৌগোলিক সীমানা মানে না, তাই বিদেশের মাটিতে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা গেলে তা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।
এই সহায়তার ফলে বাংলাদেশের টিকাদান কর্মসূচি আরও বেগবান হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সময়মতো এই বিপুল পরিমাণ টিকা শিশুদের হাতে পৌঁছালে হাম ও রুবেলার মতো জটিল রোগের প্রাদুর্ভাব অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা এই সরকারি উদ্যোগের ফলে সরাসরি উপকৃত হবে।
শিশুদের সুস্বাস্থ্যই একটি জাতির সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের মূল ভিত্তি। হাম ও রুবেলার মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগের বিরুদ্ধে এই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য একটি ইতিবাচক দিক। তবে কেবল টিকা সরবরাহ করলেই হবে না, দেশের প্রতিটি প্রান্তে যেন এই টিকা সঠিকভাবে পৌঁছায় এবং কোনো শিশু যেন এই সুবিধা থেকে বাদ না পড়ে, সেটি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।