Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি: জেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবার অভাবে বাড়ছে মৃত্যু ও ভোগান্তি

Roksana
29 August 2026, 02:11 AM পড়তে ১ মিনিট
হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি: জেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবার অভাবে বাড়ছে মৃত্যু ও ভোগান্তি

জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে প্রতিদিন ভিড় জমান হাজারো রোগী, যাদের বড় একটি অংশ আসে দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও বিশেষজ্ঞ সেবার অভাব সাধারণ মানুষের হৃদরোগের চিকিৎসাকে দুর্বিষহ করে তুলছে, যার ফলে বাড়ছে মৃত্যুর ঝুঁকি।

চাঁদপুরের কচুয়া থেকে আসা পঞ্চাশোর্ধ্ব শিক্ষক নুরুল্লাহ দীর্ঘদিন হৃদরোগে ভুগছেন। বুক ব্যথা উঠলেই তাকে দ্রুত ঢাকা ছুটে আসতে হয়, যার জন্য প্রয়োজন হয় বাড়তি টাকা ও সহায়তাকারী মানুষ। নুরুল্লাহর মতো অসংখ্য রোগীর প্রতিদিনের চিত্র এটি। জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার রোগী সেবা নিতে আসেন। তিল ধারণের ঠাঁই না থাকা এই হাসপাতালে যাতায়াতের খরচ ও দীর্ঘ অপেক্ষার যন্ত্রণা সাধারণ রোগীদের জীবনের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, দেশের প্রায় ২২ থেকে ২৩ শতাংশ মানুষ এখন উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। সরকারি হিসাবমতে, ৩০ থেকে ৭৯ বছর বয়সী প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই নীরব ঘাতক ব্যাধির শিকার। নগরায়ণ, বায়ুদূষণ, তামাকের ব্যবহার, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস ও কায়িক পরিশ্রম কমে যাওয়াকেই এই সংকটের মূল কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে দেখা গেছে, হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে যারা হাসপাতালে ভর্তি হন, তাদের ৬২.৩ শতাংশই ভর্তির প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এই মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে হার্ট অ্যাটাক (হৃদযন্ত্রের পেশিতে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়া) ও হার্ট ফেইলিউরকে। গবেষকদের মতে, দেরিতে হাসপাতালে আসা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবার অপর্যাপ্ততা এবং দুর্বল রেফারাল (এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে পাঠানোর) ব্যবস্থা মৃত্যুহার বাড়ার অন্যতম কারণ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উচ্চ রক্তচাপ শুধু হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকিই বাড়ায় না, এটি কিডনি, চোখ ও রক্তনালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের কার্যকারিতা নষ্ট করে দেয়। ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর মতে, উচ্চ রক্তচাপ পুরোপুরি সারে না, তবে জীবনযাত্রার পরিবর্তন ও নিয়মিত ওষুধ সেবনের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। অনেকেই রক্তচাপ স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ওষুধ বন্ধ করে দেন, যা অত্যন্ত বিপজ্জনক।

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ. এম. সিদ্দিকী বলেন, দেশে যারা উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন, তাদের মাত্র ১৪ শতাংশ এটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হচ্ছেন। তিনি দীর্ঘমেয়াদী কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি একটি শক্তিশালী জাতীয় নীতিমালা প্রণয়নের সুপারিশ করেছেন। অন্যদিকে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী জানান, দেশের ৩১০টি উপজেলায় ‘এনসিডি কর্নার’ (অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র) এর মাধ্যমে গ্রামীণ জনপদে সেবা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নাগরিকদের সচেতনতার পাশাপাশি জীবনযাত্রার পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। তবে সাধারণ রোগীদের দাবি, কেবল সচেতনতা নয়, বরং প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে হৃদরোগের আধুনিক চিকিৎসা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করা গেলেই কেবল এই মৃত্যুমিছিল ঠেকানো সম্ভব।

 হৃদরোগের চিকিৎসা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকারের অংশ। কিন্তু অধিকাংশ মানুষের জন্য এই সেবা এখনো দুর্গম। গবেষণার তথ্যমতে, প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুহারের এই উচ্চমূল্য আমাদের স্বাস্থ্য খাতের বড় ধরনের দুর্বলতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে। কেবল বড় শহর বা রাজধানীতে কেন্দ্র করে নয়, তৃণমূল পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবা ও সিসিইউ সুবিধা ছড়িয়ে দিতে না পারলে হৃদরোগের নীরব মহামারিকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হবে। আমাদের শুধু ওষুধের ওপর নির্ভর না করে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার আমূল পরিবর্তনে এখনই মনোযোগী হতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

হৃদরোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি: জেলা পর্যায়ে বিশেষজ্ঞ সেবার অভাবে বাড়ছে মৃত্যু ও ভোগান্তি

R
Roksana | 17 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার