Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

হামের প্রকোপে দেশে বিপন্ন শৈশব: একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে প্রাণহানি ৪৩২

Roksana
29 August 2026, 02:12 AM পড়তে ১ মিনিট
হামের প্রকোপে দেশে বিপন্ন শৈশব: একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে প্রাণহানি ৪৩২

দেশে হামের বিস্তার ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সংক্রামক ব্যাধির উপসর্গ নিয়ে আরও আটটি শিশু না ফেরার দেশে চলে গেছে। গত দুই মাসের কম সময়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা চারশ ছাড়িয়ে যাওয়ায় দেশজুড়ে অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।


বাংলাদেশে শিশুদের অকাল মৃত্যুর এক বিষাদময় অধ্যায় হয়ে দাঁড়িয়েছে বর্তমানের হাম পরিস্থিতি। বৈশ্বিক মহামারী পরবর্তী সময়ে জনস্বাস্থ্যের নানামুখী সংকটের মধ্যে হামের এই আকস্মিক প্রকোপ বিশেষজ্ঞদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

গত বুধবার সকালে প্রকাশিত অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, শেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে সাতজন মারা গেছে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ নিয়ে এবং একজনের ক্ষেত্রে ল্যাবরেটরি বা গবেষণাগারে পরীক্ষার মাধ্যমে হামের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই তথ্য কেবল একটি দিনের চিত্র হলেও এর নেপথ্যের সামগ্রিক পরিসংখ্যান আরও বেশি শঙ্কার। গত দেড় মাসে অর্থাৎ ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে সকাল পর্যন্ত দেশে হাম ও এর আনুষঙ্গিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে মোট ৪৩২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্যুর এই পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মৃত শিশুদের মধ্যে বড় একটি অংশই ছিল ‘উপসর্গধারী’। অধিদপ্তরের উপাত্ত অনুযায়ী, মোট মৃত শিশুদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ছিল ৬৯ জন, আর বাকি ৩৬৩ জন মারা গেছে হামের প্রাথমিক লক্ষণ নিয়ে। সাধারণত তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি এবং শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গগুলো হামের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। চিকিৎসকদের মতে, অনেক সময় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ পাওয়ার আগেই শিশুর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে, যা এই বিপুল সংখ্যক ‘উপসর্গধারী’ মৃত্যুর প্রধান কারণ হতে পারে।

আক্রান্তের হারের দিকে তাকালে দেখা যায়, একই সময়ে সারা দেশে গবেষণাগারে প্রমাণিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৫০ জনে। তবে এই সংখ্যার বাইরেও একটি বিশাল অংশ চিকিৎসকদের নজরদারিতে রয়েছে। হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে প্রায় ৫৩ হাজার ৫৬ জন শিশু। বিশেষ করে ঢাকা বিভাগের চিত্র সবচেয়ে করুণ। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং সচেতনতার অভাবে রাজধানী ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার দেশের অন্য অঞ্চলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এই সংকটের মাঝে একটি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে টিকাদান কর্মসূচির কার্যকারিতা। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৯৮ শতাংশ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। যদি টিকাদানের হার এতই বেশি হয়, তবে কেন এত বিপুল সংখ্যক শিশু আক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে—তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকার গুণগত মান সংরক্ষণ (শীতলীকরণ ব্যবস্থা বা কোল্ড চেইন বজায় রাখা) কিংবা কোনো নির্দিষ্ট এলাকার শিশুরা টিকার আওতা থেকে বাদ পড়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করার নির্দেশনা দিয়েছে। বিশেষ করে আক্রান্ত শিশুদের সুষম খাবার নিশ্চিত করা এবং জ্বর ও র্যাশ (ত্বকের লালচে ভাব) দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু করতে পারলে হামের জটিলতা যেমন নিউমোনিয়া বা মারাত্মক পানিশূন্যতা এড়ানো সম্ভব, যা শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে সহায়ক হতে পারে।


হামের মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগে এত বিপুল সংখ্যক শিশুর মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। একদিকে ৯৮ শতাংশ টিকাদানের সাফল্য দাবি করা হচ্ছে, অন্যদিকে মাঠ পর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। এই অমিলটি নির্দেশ করে যে, হয়তো আমাদের টিকাদান কর্মসূচির তথ্যে কোনো ঘাটতি রয়েছে অথবা টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার মতো কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। শুধু সংখ্যা দিয়ে নয়, বরং প্রতিটি শিশুর জীবন রক্ষায় সরকারকে আরও বাস্তবমুখী ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যন্ত এলাকা ও শহরের বস্তিগুলোতে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ অনুসন্ধান চালানো প্রয়োজন। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, তাই তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

হামের প্রকোপে দেশে বিপন্ন শৈশব: একদিনে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, দেড় মাসে প্রাণহানি ৪৩২

R
Roksana | 13 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার