দেশে হামের প্রাদুর্ভাব আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে, যা প্রতিদিন বহু শিশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে এই সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত স্বাস্থ্য বিবরণী বা বুলেটিনে এই উদ্বেগজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই প্রাণহানির ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হামের লক্ষণ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০৫ জনে। এর বাইরে ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়া আরও ৯৩ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ৫২ জনের শরীরে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে হামের বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গেছেন ৮৯৩ জন। তাদের মধ্যে শারীরিক জটিলতা বেশি থাকায় ৮৬০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগীদের হাসপাতালে ভর্তির তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, যার সংখ্যা ৩২৪ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ২১১ জন, বরিশালে ১২১ জন, সিলেটে ৫৫ জন, ময়মনসিংহে ৫২ জন, রাজশাহীতে ৪৫ জন, খুলনায় ৩৮ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই প্রাদুর্ভাবে বিভাগওয়ারী মৃত্যুর পরিসংখ্যানে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত ঢাকা বিভাগ। এ পর্যন্ত ঢাকায় ২৬২ জন শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। অন্যান্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৮৮ জন, সিলেটে ২৬২ জনের পর সিলেটের ৭৬ জন, ময়মনসিংহে ৫৫ জন, চট্টগ্রামে ৫০ জন, বরিশালে ৩৯ জন, খুলনায় ২৭ জন এবং রংপুরে ৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
অধিদপ্তরের সামগ্রিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে ভর্তি হওয়া মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০ হাজার ৪৯৭ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৬ হাজার ৭৮৮ জন। বর্তমানে দেশে হামের সন্দেহভাজন উপসর্গ থাকা মোট রোগীর সংখ্যা ৯৬ হাজার ৬৫৩ জন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ৪৪২ জন।
জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ও সংক্রামক রোগ, যা প্রধানত অসচেতনতার কারণে শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়ায়। সময়মতো হাম ও রুবেলা প্রতিরোধী টিকা (এমআর টিকা) না দেওয়াই এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। শিশুদের শরীরে অতিরিক্ত জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং লালচে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিলে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে আলাদা রাখা ও পর্যাপ্ত তরল খাবার নিশ্চিত করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।