দীর্ঘ সাড়ে চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দুর্গ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে জয়ধ্বজা ওড়ালো লিডস ইউনাইটেড। ১৯৮১ সালের পর এই প্রথম রেড ডেভিলদের (ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ডাকনাম) তাদেরই মাঠে হারিয়ে ইতিহাসের পাতায় নতুন করে নাম লিখিয়েছে অবনমনের শঙ্কায় থাকা দলটি।
ফুটবল বিশ্বে ইতিহাস বদলানোর জন্য কখনও কখনও কয়েক প্রজন্মের অপেক্ষা প্রয়োজন হয়। লিডস ইউনাইটেডের জন্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি এলো দীর্ঘ ৪৫ বছর পর। মঙ্গলবার রাতে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে স্বাগতিক ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে ২-১ গোলে হারিয়ে চমকে দিয়েছে লিডস। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট তালিকায় অবনমন অঞ্চল (তালিকায় যে অবস্থানে থাকলে পরবর্তী মৌসুমে নিচের স্তরের লিগে নেমে যেতে হয়) থেকে অনেকটাই নিরাপদ দূরত্বে সরে এলো তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আগ্রাসী মেজাজে মাঠে নামে লিডস। খেলার মাত্র ৫ মিনিটেই ওকাফোরের দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় সফরকারীরা। প্রথমার্ধের ২৯ মিনিটে আবারও উৎসবের উপলক্ষ পায় তারা। এবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় লিসান্দ্রো মার্টিনেজের ভুলে সুযোগ লুফে নেয় লিডস। আরনসনের বাড়ানো পাসে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সেই ওকাফোর। প্রথমার্ধেই লিডসের আধিপত্য স্বাগতিক দর্শকদের স্তব্ধ করে দেয়।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আরও বড় বিপদে পড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের চুল ধরে টান দেওয়ার অভিযোগে ভিডিও সহকারী রেফারি বা ভিএআর (প্রযুক্তির মাধ্যমে রেফারির নেওয়া সিদ্ধান্ত পুনর্মূল্যায়ন পদ্ধতি) সহায়তায় লাল কার্ড পান আর্জেন্টাইন তারকা লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ১০ জনের দলে পরিণত হয়েও অবশ্য হাল ছাড়েনি কোচ ক্যারিকের শিষ্যরা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়ে তারা ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে।
খেলার ৬৯ মিনিটে ব্রুনো ফার্নান্দেসের নিখুঁত ক্রস থেকে চমৎকার হেডে গোল করে ব্যবধান কমান ক্যাসেমিরো। ম্যাচের বাকি সময় সমতা ফেরানোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়েছিল ম্যানইউ। কিন্তু লিডসের দৃঢ় রক্ষণভাগের দেয়াল ভাঙতে ব্যর্থ হয় তারা। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে। এই হারের পরও ৩২ ম্যাচে ৫৫ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ইউনাইটেড। অন্যদিকে, সমান ম্যাচে ৩৬ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার ১৫ নম্বরে উঠে এসেছে লিডস ইউনাইটেড।
লিডসের এই জয় কেবল তিন পয়েন্টের অর্জন নয়, এটি তাদের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধারের এক মহৌষধ। ৪৫ বছর পর বড় কোনো দলের মাঠে এমন জয় প্রমাণ করে যে ফুটবলে শেষ বাঁশি বাজার আগে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। লিডস কি পারবে এই জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সামনের কঠিন দিনগুলো পার করতে? অন্যদিকে, নিজেদের মাঠে এমন হার কি ইউনাইটেডের আগামীর শিরোপা লড়াইয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে? উত্তরের অপেক্ষায় থাকবে ফুটবল প্রেমীরা।