বর্ষাকাল শুরু হওয়ার সাথে সাথেই দেশজুড়ে মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ইতিমধ্যেই দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে আরও ১৫৭ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম (স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা পরিচালনা কেন্দ্র ও নিয়ন্ত্রণ কক্ষ) থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত দেশের প্রায় সব অঞ্চলে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের ৫৮টি জেলায় ডেঙ্গুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যেভাবে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকালে এডিস মশার প্রজনন হার বৃদ্ধি পাওয়ায় রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট বিভাগের পরিসংখ্যান থেকে জানা যায়, পূর্ববর্তী বছরে দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪১৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বছরের এই মাঝামাঝি সময়ে এসে ডেঙ্গুর এমন ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুর হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষায় সরকার ইতিমধ্যে বিশেষ প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করেছে। ডেঙ্গুর প্রকোপ কঠোরভাবে দমনের লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে প্রধান করে ১৯ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স (বিশেষ কার্যদল) গঠন করা হয়েছে। এই বিশেষ দলটির মূল কাজ হবে দেশজুড়ে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করা, ডেঙ্গুর প্রজনন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করে তা ধ্বংস করা এবং সারাদেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা।
বিশেষ করে রাজধানী ঢাকায় ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (নগর সংস্থা) সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করেছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে মশক নিধন ওষুধ ছিটানো, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচারপত্র বিলি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বহুতল ভবন এবং নির্মাণাধীন ভবনে জমে থাকা পানি পরীক্ষার জন্য নিয়মিত ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমেই ডেঙ্গুর জীবাণু মানুষের শরীরে ছড়ায়। বিশেষ করে ঘরের কোণে জমে থাকা পরিষ্কার পানি, ফুলের টব, ডাবের খোসা কিংবা পরিত্যক্ত টায়ারে জমে থাকা পানিতে এই মশা ডিম পাড়ে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে কেবল সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, সাধারণ মানুষকেও সমানভাবে সচেতন হতে হবে। নিজেদের ঘরবাড়ি এবং চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি ব্যবহার করতে হবে। ডেঙ্গুর সামান্য লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।