Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৮

Roksana
29 August 2026, 01:54 AM পড়তে ১ মিনিট
চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৮

বন্দরনগরী চট্টগ্রামে জেঁকে বসছে সংক্রামক রোগ হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই জেলায় বছরের প্রথম প্রাণহানি ঘটল। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে নতুন রোগীর সংখ্যা, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য এক চরম উদ্বেগজনক বার্তা দিচ্ছে।


চট্টগ্রামে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। এই রোগের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে হামের উপসর্গ নিয়ে এটিই চট্টগ্রামে প্রথম মৃত্যুর ঘটনা। মৃত শিশুটির বাড়ি পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার জেলায় হলেও সে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে ভর্তি হয়েছিল। এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিশেষ করে অভিভাবক মহলে তীব্র আতঙ্ক ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চট্টগ্রামে হামের প্রকোপ কেবল বাড়ছেই না, বরং তা ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন এলাকায়। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে আরও ১৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর ফলে জেলায় মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৬ জনে। আক্রান্তদের মধ্যে মহানগরের চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ। নতুন শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের মধ্যে ১৬ জনই চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার বাসিন্দা। বাকি দুইজন শনাক্ত হয়েছেন জেলার বিভিন্ন উপজেলা বা গ্রামীণ এলাকা থেকে।

কেবল উপসর্গ নয়, ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারে পরীক্ষার মাধ্যমেও হামের উপস্থিতির প্রমাণ মিলছে। সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৮ জনের শরীরে হামের ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত (কনফার্মড) হওয়া গেছে। ঢাকার জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের (ন্যাশনাল পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি) দেওয়া পরীক্ষায় এই ৮ জনের নমুনা পজিটিভ বা ধনাত্মক এসেছে। অর্থাৎ, এই রোগটি কেবল সন্দেহের তালিকায় নেই, বরং সামাজিকভাবে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

রোগ নির্ণয় প্রক্রিয়া জোরদার করতে স্বাস্থ্য বিভাগ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আজ নতুন করে আরও ২০টি নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ১১১টি নমুনা সংগ্রহের পর পরীক্ষার জন্য পাঠানো হলো। সাধারণত হামের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রার জ্বর, সারা শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা দানা ওঠা এবং সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না করালে এবং পুষ্টির অভাব থাকলে এই রোগটি শিশুদের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, "আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছি। হাম প্রতিরোধে প্রতিটি এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে যেসব শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) থেকে বাদ পড়েছে, তাদের দ্রুত টিকার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো শিশুর শরীরে জ্বর বা ফুসকুড়ির মতো লক্ষণ দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। একই সঙ্গে জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে এখন বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নির্ধারিত ওয়ার্ডগুলোতে ভিড় বাড়ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্বারে দ্বারে গিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি শিশুদের টিকার ইতিহাস যাচাই করছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং কোনোভাবেই যেন কোনো শিশু সুরক্ষার বাইরে না থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হচ্ছে।


হাম একটি সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য রোগ হওয়া সত্ত্বেও এক শিশুর মৃত্যু আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কোথাও না কোথাও আমাদের সচেতনতায় ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির সুফল যেন প্রতিটি ঘরে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করা কেবল সরকারের নয়, বরং প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব। সামান্য অবহেলায় একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ চলে যাওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। সময়মতো সঠিক টিকা এবং পুষ্টিকর খাবারই পারে এই সংক্রামক ব্যাধি থেকে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে। আতঙ্ক নয়, বরং সচেতনতাই হোক এই পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রধান হাতিয়ার।

এলাকা: চট্টগ্রাম
পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

চট্টগ্রামে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুর মৃত্যু, নতুন রোগী ১৮

R
Roksana | 02 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার