Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২২ দিনে প্রাণ হারালো ১১৩ শিশু, আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি

Roksana
29 August 2026, 01:58 AM পড়তে ১ মিনিট
দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২২ দিনে প্রাণ হারালো ১১৩ শিশু, আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি

দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে নতুন করে চরম উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে সংক্রামক ব্যাধি হাম। গত তিন সপ্তাহের ব্যবধানে সারাদেশে কয়েক হাজার শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং শতাধিক শিশুর করুণ মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলে এই রোগের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

 দেশে গত ২২ দিনে হাম সন্দেহে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাত হাজার ৬১০ জনে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যে ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। রোববার (৫ এপ্রিল) অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেবল গত ২৪ ঘণ্টাই সারাদেশে নতুন করে ৯৭৪ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে এবং প্রাণ হারিয়েছে আরও ১০ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য-উপাত্ত বিশদভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি সময় পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে হামের উপসর্গ নিয়ে ৭ হাজার ৬১০ জন শিশু চিকিৎসাকেন্দ্রে (হাসপাতালে) ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার পর এদের মধ্যে ৯২৯ জনের শরীরে হামের জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। মৃত শিশুদের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১১৩ জন শিশুর মৃত্যু হামের কারণে হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও, চূড়ান্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১৭ জনের মৃত্যুর পেছনে 

নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু দায়ী ছিল। বাকিদের ক্ষেত্রেও পরীক্ষার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিভাগওয়ারী সংক্রমণের চিত্রে দেখা গেছে, ঢাকা বিভাগ বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এই বিভাগে ৩ হাজার ২৫৯ জন শিশু হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে, যার মধ্যে ৪৬৮ জনের ক্ষেত্রে রোগটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টার হিসেবেও ঢাকা বিভাগের অবস্থা আশঙ্কাজনক। একদিনে সারাদেশে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৬৫৪ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৪২ জনের শরীরে রোগটি ধরা পড়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ৩৮ জনই রাজধানীসহ ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

অন্যদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুর পরিসংখ্যানে রাজশাহী বিভাগ সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে। অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ের মধ্যে রাজশাহী বিভাগে ৫৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। ঢাকার মৃত্যুর সংখ্যা ১০ জনে দাঁড়িয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, একই সময়ে ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেট বিভাগে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ যা প্রধানত শিশুদের শ্বাসতন্ত্রে আক্রমণ করে। এটি মূলত বাতাসের মাধ্যমে ছড়ায়। বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন যে, যদি কোনো শিশুর শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পায় এবং শরীরে লালচে দানা বা ফুসকুড়ি দেখা দেয়, তবে দেরি না করে নিকটস্থ চিকিৎসাকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে হবে। সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতোমধ্যে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি (ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন) ঘোষণা করেছে। আক্রান্ত এলাকাগুলোতে শিশুদের বিশেষ সুরক্ষামূলক টিকা প্রদানের কাজ ত্বরান্বিত করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিপূর্বে জারিকৃত নির্দেশনার ভিত্তিতে দেশের সব জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা সেবা জোরদার করা হয়েছে। মূলত টিকা না নেওয়া বা অপূর্ণাঙ্গ টিকা গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যেই এই রোগের সংক্রমণ ও তীব্রতা বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই অভিভাবকদের সচেতনতা এবং নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে শিশুদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন চিকিৎসকরা।

 হামের এই আকস্মিক প্রাদুর্ভাব আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামনে একটি নতুন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। একদিকে যেমন টিকার সঠিক বণ্টন ও প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, অন্যদিকে জনসচেতনতার অভাবও এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী হতে পারে। কেবল সরকারি উদ্যোগ বা টিকাদান কর্মসূচি দিয়ে এই মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয়; বরং প্রতিটি পরিবারের সচেতনতা এবং শিশুদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি। দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এই মরণব্যাধি থেকে রক্ষা করতে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণই এখন সময়ের দাবি।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

দেশজুড়ে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২২ দিনে প্রাণ হারালো ১১৩ শিশু, আক্রান্ত সাত হাজারের বেশি

R
Roksana | 05 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার