Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম

Roksana
29 August 2026, 01:56 AM পড়তে ১ মিনিট
জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম

শিশুদের সংক্রামক ব্যাধি থেকে বাঁচাতে রোববার সকাল ৯টা থেকে শুরু হচ্ছে দেশব্যাপী জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি। তবে যেসব শিশু বর্তমানে জ্বরে ভুগছে বা অসুস্থ, তাদের সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত এই টিকা না দেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

 দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে হাম ও রুবেলার মতো মারাত্মক রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত রাখতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শনিবার রাজধানীর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এই জরুরি কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন। তিনি জানান, রোববার সকাল থেকেই নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে শিশুদের এই টিকা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়ে বলেন, টিকা দেওয়ার সময় শিশুর শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি সবার আগে বিবেচনা করতে হবে। যদি কোনো শিশু বর্তমানে সাধারণ জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতায় ভোগে, তবে তাকে সুস্থ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। সুস্থ হওয়ার পরই কেবল তাকে কেন্দ্রে এনে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া যেসব শিশু ইতোমধ্যেই হামে আক্রান্ত হয়েছে বা যাদের শরীরে হামের লক্ষণ রয়েছে, তাদের জটিলতা কমাতে টিকাদানের পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এই বিশেষ ক্যাপসুলটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে হামজনিত শারীরিক জটিলতা কমাতে বিশেষ সহায়তা করবে।

প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে এই বিশেষ কর্মসূচির আওতায় আনা হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথম ধাপের এই কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার পর পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। আগামী ২১ মে ২০২৬ তারিখের মধ্যে অর্থাৎ পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই এই টিকাদান কার্যক্রমের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এই জরুরি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য হলো অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের প্রতিটি শিশুকে সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে নিয়ে আসা।

টিকাদান কর্মসূচির জন্য নির্ধারিত ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলার তালিকাও সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করা হয়েছে। এই এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে— বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু। ঢাকার নবাবগঞ্জ এবং গাজীপুর সদরও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত। এছাড়াও যশোরের সদর উপজেলা, ঝালকাঠির নলছিটি, মাদারীপুর সদর, এবং মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর উপজেলায় এই কার্যক্রম চলবে। উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর মধ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; নাটোর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; নওগাঁর পোরশা; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, সদর ও ভোলাহাট; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; রাজশাহীর গোদাগাড়ী এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলাকে এই বিশেষ টিকাদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই কার্যক্রম সফল করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. এস.এম জিয়াউদ্দিন, স্বাস্থ্যসচিব কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা সবাই শিশুদের সুস্থতা নিশ্চিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেন।

 একটি সুস্থ ও সবল জাতি গঠনে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। হাম ও রুবেলা এক সময় মহামারির রূপ নিলেও সঠিক সময়ে টিকাদানের মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সরকারের এই জরুরি উদ্যোগ প্রশংসনীয়, তবে এর সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করছে অভিভাবকদের সচেতনতার ওপর। বিশেষ করে অসুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে মন্ত্রণালেয়র দেওয়া সতর্কতা মেনে চলা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিটি যোগ্য শিশু যাতে টিকার আওতায় আসে, তা নিশ্চিত করা আমাদের সকলের সামাজিক দায়িত্ব।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
স্বাস্থ্য

জরুরি ভিত্তিতে দেশজুড়ে শুরু হচ্ছে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রম

R
Roksana | 04 April 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার