টানা দুই ম্যাচ হেরে আগেই টি-টোয়েন্টি (T20) সিরিজ হাতছাড়া হয়েছে বাংলাদেশের। তাই সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি দলের জন্য ছিল কেবলই ধবলধোলাই বা হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর এক মর্যাদার লড়াই। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় দল। সবার প্রত্যাশা ছিল, অন্তত শেষ ম্যাচে জ্বলে উঠবে ব্যাটাররা। কিন্তু মাঠে নামতেই যেন পুরোনো ভূত চেপে বসল টপ অর্ডারের ঘাড়ে। শুরুতেই চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে দলটি। প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে গেছেন দলের দুই নির্ভরযোগ্য ওপেনার। এরপর পারভেজ হোসেন ইমনও নিজের উইকেট বিলিয়ে দিয়ে দলের বিপদ আরও ঘনীভূত করেছেন।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ম্যাচে প্রথম ছয় ওভার বা পাওয়ার প্লে (Powerplay) শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়িয়েছে ৩ উইকেট হারিয়ে মাত্র ২২ রান। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে পাওয়ার প্লেতে এর চেয়ে কম রান করার নজির বাংলাদেশের মাত্র তিনটি রয়েছে। ফলে অল্পের জন্য নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন পাওয়ার প্লের রেকর্ডের লজ্জায় পড়তে হয়নি দলটিকে। তবে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের মতো দ্রুতগতির সংস্করণে এমন শম্বুক গতির শুরু দলের বড় স্কোরের ভিতকে রীতিমতো নড়বড়ে করে দিয়েছে।
ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জোড়া ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। অজি পেসার স্পেন্সার জনসনের করা তৃতীয় বলটি সোজা খেলেছিলেন সাইফ। কিন্তু বলটি বোলারের হাতে আলতো স্পর্শ করে সোজা আঘাত হানে নন-স্ট্রাইক প্রান্তের স্টাম্পে। অপর প্রান্তে থাকা ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম তখন রান নেওয়ার আশায় ক্রিজ থেকে সামান্য বেরিয়ে এসেছিলেন। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনকভাবে রান আউট হয়ে প্যাভিলিয়নে ফিরতে হয় তাকে। একই ওভারের পঞ্চম বলে আবারও বিপত্তি। এবার বোলারকে চাপে ফেলতে মিড অফের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেন সাইফ। তার দুর্বল শটটি শূন্যে ভেসে সরাসরি চলে যায় অজি ফিল্ডার মিচেল মার্শের বিশ্বস্ত হাতে।
টপ অর্ডারের এমন বিপর্যয়ের মুখে দলের হাল ধরার বদলে উল্টো চরম হতাশা উপহার দেন পারভেজ হোসেন ইমন। ক্রিজে এসে তিনি এবং তাওহিদ হৃদয় রানের চাকা সচল রাখতে রীতিমতো সংগ্রাম করছিলেন। একটি সিঙ্গেল বের করতেও তাদের ঘাম ঝরছিল। শুরু থেকেই বলের লাইনে গিয়ে খেলতে ধুঁকতে থাকা ইমন শেষ পর্যন্ত নিজের ধৈর্যের বাঁধ হারান। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে তিনিও সাজঘরের পথ ধরেন। আউট হওয়ার আগে ১৩ বল খেলে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১ রান। টি-টোয়েন্টির যুগে এমন মন্থর ইনিংস দলের ওপর চাপ আরও বাড়িয়ে দেয়।
এরপর ষষ্ঠ ওভারে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন উইকেটরক্ষক ব্যাটার নুরুল হাসান সোহান এবং তাওহিদ হৃদয়। এই ওভারে দুজনের ব্যাট থেকে আসে একটি করে বাউন্ডারি বা চার। মূলত এই দুটি বাউন্ডারির সুবাদেই পাওয়ার প্লেতে নিজেদের সর্বনিম্ন রানের বিব্রতকর রেকর্ড ভাঙার হাত থেকে রক্ষা পায় বাংলাদেশ। তবে সিরিজজুড়ে ব্যাটারদের এমন ধারাবাহিক ব্যর্থতা এবং হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর ম্যাচে শুরুতেই এই ব্যাটিং ধস ভক্তদের পাশাপাশি টিম ম্যানেজমেন্টের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।