সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পাকিস্তান দলের বিপক্ষে শুরুটা মোটেও সুখকর হয়নি বাংলাদেশের। ইনিংসের শুরুতে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া স্বাগতিকরা নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে।
আজ শনিবার সকালে টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন পাকিস্তান দলের অধিনায়ক শান মাসুদ। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই মোহাম্মদ আব্বাসের তোপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই কোনো রান যোগ করার আগেই বিদায় নেন ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়। রক্ষণাত্মক মেজাজে খেলতে গিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে ক্যাচ দিয়ে তিনি সাজঘরে ফেরেন। দলের স্কোরবোর্ডে কোনো রান ওঠার আগেই এক উইকেট হারানো বাংলাদেশ তখন বেশ চাপে।
এরপর হাল ধরার চেষ্টা করেন অভিষিক্ত তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসান তামিম। আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ব্যাট চালিয়ে তিন চারের মারে ৩৪ বলে ২৬ রান সংগ্রহ করেন তিনি। তবে ব্যক্তিগত ইনিংসটি লম্বা করতে পারেননি। মোহাম্মদ আব্বাসের একটি বাউন্সার মোকাবিলা করতে গিয়ে টপ এজ (ব্যাটের উপরিভাগে লেগে বল আকাশে ওঠা) হয়ে ক্যাচ দেন তামিম। দলীয় ৪৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ হারায় দ্বিতীয় উইকেট।
এরপর ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ ব্যাটার মুমিনুল হক। আগের টেস্টে জোড়া অর্ধশতক করা এই ব্যাটারের দিকে তাকিয়ে ছিল পুরো দল। কিন্তু খুররম শেহজাদের একটি দুর্দান্ত ডেলিভারিতে লাইন বুঝতে ভুল করেন মুমিনুল। বল তার ব্যাটের পাশ দিয়ে সরাসরি আঘাত করে স্টাম্পের বেল ফেলে দেয়। ৪১ বলে ২২ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ৬৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ যখন চরম সংকটে, তখনই উইকেটে থিতু হওয়ার লড়াই শুরু করেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম।
লাঞ্চ বিরতি পর্যন্ত বাংলাদেশ ২৬ ওভার খেলে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০১ রান সংগ্রহ করেছে। নাজমুল হোসেন শান্ত ২৬ রান এবং মুশফিকুর রহিম ১৮ রান নিয়ে অপরাজিত থেকে ড্রেসিংরুমে ফিরেছেন। বিরতির পর এই জুটির ওপরই নির্ভর করছে বাংলাদেশের দলীয় সংগ্রহের বড় ভিত্তি। পিচ থেকে বোলাররা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেলেও, ধৈর্য ধরে খেলতে পারলে বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা দেখছেন বিশ্লেষকরা।
পাকিস্তান বোলারদের মধ্যে মোহাম্মদ আব্বাস বেশ নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছেন। শুরুর ধাক্কা সামলে বাংলাদেশ কত রান তুলতে পারে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
ঘরের মাঠে টেস্ট খেলার মূল সুবিধা হলো কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকা। আজকের ম্যাচে টপ অর্ডার যেভাবে দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছে, তা থেকে শিক্ষা নেওয়া জরুরি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বারবার এমন শুরুর ধাক্কা সামলানো কঠিন। শান্ত ও মুশফিক যেভাবে ক্রিজে টিকে আছেন, তাদের থেকে বড় জুটি প্রত্যাশা করছে ক্রিকেটপ্রেমীরা। দলীয় রান আড়াইশ পার করতে হলে এই জুটিকেই টিকে থাকতে হবে দীর্ঘক্ষণ। টেস্ট ক্রিকেটে ধৈর্যই আসল শক্তি, যা বাংলাদেশের ব্যাটারদের পরবর্তী সেশনে অবশ্যই দেখাতে হবে।