ক্রিকেটে প্রবাদ আছে, ‘ফর্ম ক্ষণস্থায়ী, কিন্তু আভিজাত্য চিরস্থায়ী’। এই প্রবাদেরই যেন বাস্তব প্রতিফলন ঘটালেন বিশ্বখ্যাত পেসার জসপ্রিত বুমরাহ। চলতি ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) দীর্ঘ খরা কাটিয়ে অবশেষে সাফল্যের দেখা পেয়েছেন তিনি।
চলতি আসরে জসপ্রিত বুমরাহকে নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা কম হয়নি। বিশ্বের অন্যতম সেরা পেসার হওয়া সত্ত্বেও টানা পাঁচটি ম্যাচে তিনি ছিলেন উইকেটশূন্য। প্রতিটি ম্যাচেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করলেও ভাগ্যের ফেরে সাফল্যের ঝুলি ছিল শূন্য। টানা ১৯ ওভার বা ১১৪টি বল করার পরও কোনো ব্যাটারকে সাজঘরে পাঠাতে না পারায় তার ফিটনেস ও ধার নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছিলেন ক্রিকেট বিশ্লেষকরা। তবে সব সমালোচনার জবাব দিতে বুমরাহ বেছে নিলেন ষষ্ঠ ম্যাচের প্রথম বলটিকেই।
আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে গুজরাট টাইটান্সের মুখোমুখি হয়েছিল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। আগে ব্যাট করতে নেমে তিলক বর্মার বিধ্বংসী শতকের ওপর ভর করে ১৯৯ রানের পাহাড় গড়ে মুম্বাই। ৪৫ বলে ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে বড় সংগ্রহ এনে দেন এই তরুণ তুর্কি। ২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নামা গুজরাটকে শুরুতেই স্তব্ধ করে দেন বুমরাহ।
ইনিংসের প্রথম ডেলিভারিটি ছিল অফ স্টাম্পের কিছুটা বাইরে ফুল লেংথ (পিচের উপরিভাগে পড়া বল)। সেটি খেলতে গিয়ে কভারে ক্যাচ তুলে দেন গুজরাটের ওপেনার সাই সুদর্শন। তরুণ ফিল্ডার কৃশ ভগত কোনো ভুল না করে ক্যাচটি তালুবন্দি করতেই যেন এক বিশাল ভার নেমে গেল বুমরাহের কাঁধ থেকে। আইপিএলে প্রায় ১৪৬ বল পর এটি ছিল তার প্রথম শিকার।
ম্যাচ শেষে বুমরাহের পরিসংখ্যান বলছে, ৩ ওভারে মাত্র ১৫ রান খরচ করে ১টি উইকেট নিয়েছেন তিনি। যদিও সংখ্যাটি বড় নয়, কিন্তু দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ কাটাতে এই একটি উইকেটই ছিল যথেষ্ট। বিগত ৫ ম্যাচে ১৬৪ রান দিয়েও যেখানে কোনো সাফল্য পাননি, সেখানে এই মিতব্যয়ী বোলিং মুম্বাইয়ের জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
একজন বোলার যখন টানা ভালো বল করেও উইকেটের দেখা পান না, তখন সেটি তার আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে পারে। তবে বুমরাহের মতো লড়াকু ক্রিকেটাররা জানেন কীভাবে ফিরে আসতে হয়। এবারের উইকেটটি কেবল মুম্বাইয়ের সাফল্য নয়, বরং বুমরাহের স্বরূপে ফেরার বার্তা হিসেবেই দেখছেন ভক্তরা। বড় টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের এমন প্রত্যাবর্তন যেকোনো দলের জন্যই আশীর্বাদস্বরূপ।