আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) পরবর্তী সভাপতি হিসেবে জয় শাহর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান মহসিন নাকভি—এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সাথে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ম্যাচে গ্যালারিতে দর্শক ফিরিয়ে আনার বিষয়েও নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান।
ক্রিকেট বিশ্বে গত কয়েকদিন ধরে একটি খবর বেশ জোরালোভাবে চাউর হয়েছিল যে, বর্তমান আইসিসি প্রধান জয় শাহর উত্তরসূরি হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের মহসিন নাকভি। বর্তমানে তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) পাশাপাশি এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলেরও (এসিসি) সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একসাথে ক্রিকেট বিশ্বের তিনটি প্রভাবশালী পদের দায়িত্ব পালন করার মতো বিশাল গুঞ্জন ডালপালা মেললে শেষ পর্যন্ত মুখ খুলতে বাধ্য হন তিনি। গত সোমবার করাচির জাতীয় ব্যাংক স্টেডিয়ামে পেশোয়ার জালমি ও মুলতান সুলতান্সের মধ্যকার ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নাকভি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আপাতত আইসিসির শীর্ষ পদের লড়াইয়ে তিনি নেই।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে পিসিবি প্রধান বলেন, বর্তমানে তার কাঁধে এমনিতেই অনেক দায়িত্ব রয়েছে, তাই নতুন করে এই পদের ভার নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তার নেই। এর মাধ্যমে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটান। তবে পিসিবি প্রধানের বর্তমান মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট পাকিস্তান সুপার লিগ। বিশেষ করে শূন্য গ্যালারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া এই আসরে কীভাবে দর্শকদের ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করছেন তিনি।
উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকারের মিতব্যয়িতা ও সাশ্রয়ী নীতির অংশ হিসেবে চলতি পিএসএলের ম্যাচগুলো দর্শকবিহীন স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পরিকল্পনার কারণে জনসমাগম ও বাড়তি খরচ এড়াতে করাচি ও লাহোরের দুটি ভেন্যুতে খেলা সীমাবদ্ধ রাখা হয়। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মালিকপক্ষ শুরু থেকেই এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিল। তাদের দাবি ছিল, দর্শক ছাড়া ক্রিকেটের আসল আমেজ ও জৌলুস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দর্শকদের মাঠে প্রবেশের অনুমতি দিতে তারা প্রধানমন্ত্রী ও প্রাদেশিক সরকারের কাছে আবেদনও জানান।
এই প্রেক্ষাপটে মহসিন নাকভি জানান, তিনি দর্শকদের স্টেডিয়ামে ফেরানোর বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে আবারও আলোচনা করবেন। পিসিবি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে যাতে দেশের সাধারণ মানুষ গ্যালারিতে বসে খেলা উপভোগ করতে পারে। তবে এক্ষেত্রে তিনি মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থিরতা ও চলমান যুদ্ধাবস্থায় সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তবে দর্শক ফেরার সম্ভাবনা জাগলেও টুর্নামেন্টের পূর্বনির্ধারিত সূচিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, জয় শাহর স্থলাভিষিক্ত হওয়া নিয়ে যে আলোচনার সূত্রপাত হয়েছিল, তা পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য সম্মানের হলেও বর্তমান অস্থিতিশীল অবস্থায় নাকভি নিজ দেশের ক্রিকেট কাঠামো ও ঘরোয়া লীগকে শক্তিশালী করতেই বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে ফিন্যান্সিয়াল টার্মস (আর্থিক শর্তাবলি) এবং লজিস্টিক সাপোর্ট (সরঞ্জাম ও ব্যবস্থাপনাগত সহায়তা) নিশ্চিত করে টুর্নামেন্ট সফল করা এখন পিসিবির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
খেলার প্রাণ হলো দর্শক, আর গ্যালারি শূন্য রেখে বড় কোনো আয়োজন পূর্ণতা পায় না। মহসিন নাকভি একদিকে যেমন আইসিসির পদের মোহ ত্যাগ করেছেন, অন্যদিকে নিজ দেশের গ্যালারিতে দর্শক ফেরানোর আর্তি জানিয়েছেন। প্রশ্ন থেকে যায়, সরকারের সাশ্রয়ী নীতি আর বৈশ্বিক অস্থিরতার মাঝে সাধারণ দর্শক কি শেষ পর্যন্ত মাঠে ফেরার সুযোগ পাবেন? ক্রিকেটের উন্নতির জন্য প্রশাসকদের পদের চেয়ে মাঠের খেলায় নজর দেওয়াটা অবশ্যই ইতিবাচক।