ম্যাচের মাঝপথে আকস্মিক বজ্রপাত আর বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রথমার্ধের বিরতির পর প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ ছিল। তবে প্রকৃতির এই বড় বাধা ফরাসিদের মাঠের ছন্দ একটুও নষ্ট করতে পারেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পরও মাঠে ফিরে সমান দাপট দেখিয়েছে ফ্রান্স। ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত আবহাওয়ার রেশ কাটিয়ে শেষ পর্যন্ত অনায়াস জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে ২০১৮ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের ‘আই’ গ্রুপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ইরাককে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ফ্রান্স। এই জয়ে প্রধান নায়ক হিসেবে নিজেকে আরও একবার প্রমাণ করেছেন দলের অন্যতম সেরা তারকা কিলিয়ান এমবাপে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে সেনেগালকে হারানোর পর দ্বিতীয় ম্যাচেও পূর্ণ আধিপত্য বজায় রাখায়, দুই ম্যাচ শেষে ৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার আগে নকআউট (সরাসরি বিদায় পর্ব) নিশ্চিত করল দিদিয়ের দেশমের দল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ইরাকের রক্ষণভাগের ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করতে থাকে ফরাসি আক্রমণভাগ। খেলার ১৪তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় তারা। সতীর্থ মাইকেল অলিসের চমৎকার এক পাস (সহযোগিতামূলক পাস) থেকে বল পেয়ে জালে জড়ান রিয়াল মাদ্রিদের নতুন এই তারকা স্ট্রাইকার (আক্রমণভাগের খেলোয়াড়)। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় ফ্রান্স।
তবে প্রথমার্ধের ২০ মিনিটের নির্ধারিত বিরতি শেষ হওয়ার আগেই শুরু হয় তীব্র বজ্রপাত ও ঝড়ো হাওয়া। খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার স্বার্থে খেলা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আবহাওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর আবহাওয়া অনুকূলে এলে পুনরায় দ্বিতীয় অর্ধে খেলা মাঠে গড়ায়।
দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকার পরও ফরাসিদের খেলার গতি কমেনি। দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই আবারো নিজের চিরচেনা রূপ দেখান এমবাপে। খেলার ৫৪তম মিনিটে নিজের এবং দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমে তিনি বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছেন। বিশ্বকাপে এখন জার্মানির কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড মিরোস্লাভ ক্লোসা ও এমবাপের গোলসংখ্যা সমান ১৬টি। তাঁদের ওপরে কেবল ১৮টি গোল নিয়ে শীর্ষস্থানে অবস্থান করছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি।
এমবাপের জোড়া গোলের পর ফ্রান্স তাদের আক্রমণের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দেয়। ইরাকের রক্ষণভাগকে পুরোপুরি কোণঠাসা করে ম্যাচের শেষভাগে ফ্রান্সের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন উসমান দেম্বেলে। শেষ পর্যন্ত ৩-0 ব্যবধানে দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স।
এই ম্যাচে শুধু এমবাপেই নন, নতুন এক অনন্য কীর্তি গড়েছেন ফ্রান্সের প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশমও। ইরাকের বিপক্ষে এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে কোচ হিসেবে সর্বোচ্চ জয়ের তালিকায় নিজের নাম লেখালেন তিনি। বর্তমানে ১৬টি জয় নিয়ে জার্মানির সাবেক বিশ্বকাপজয়ী কোচ হেলমুট শ্যোনের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষস্থানে রয়েছেন দেশম। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে ফ্রান্স জয়লাভ করতে পারলে ১৭টি জয় নিয়ে এককভাবে এই বিশ্বরেকর্ডের মালিক হবেন ফরাসি কোচ।