আটলান্টার স্টেডিয়ামে এক হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শুরুতে এক গোলে পিছিয়ে পড়েও শেষ মুহূর্তের অসাধারণ প্রত্যাবর্তনে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে লিওনেল স্কালোনির দল। আর্জেন্টিনার হয়ে গোল দুটি করেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্টিনেজ। ইংল্যান্ডের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলের খেলায় তীব্র লড়াই দেখা গেলেও কোনো পক্ষই গোলমুখে তেমন সুবিধা করতে পারেনি। মধ্যমাঠে শারীরিক শক্তি ও ফাউলের মহড়ায় ব্যস্ত ছিলেন দুই দলের ফুটবলাররা। প্রথম ৪৫ মিনিটে দুই দল মিলিয়ে মোট ১৯টি ফাউল করে, যার মধ্যে আর্জেন্টিনা একাই করে ১২টি। খেলার গতি ধরে রাখতে রেফারিকে বেশ বেগ পেতে হয়। প্রথমার্ধেই আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ও ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন হলুদ কার্ড দেখেন। দুই দলের তারকা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইন প্রথমার্ধে নিজেদের চেনা ছন্দে ছিলেন না। ফলে গোলশূন্য সমতা নিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের চিত্র বদলে যায়। ৫৫ মিনিটে পাল্টা আক্রমণ থেকে গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে নেন অ্যান্থনি গর্ডন। হ্যারি কেইনের বাড়িয়ে দেওয়া বল ধরে ডেক্লান রাইস পাস দেন রজার্সকে। রজার্সের চমৎকার ক্রস থেকে বক্সের ভেতর বল পেয়ে আর্জেন্টিনার গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজকে পরাস্ত করেন গর্ডন।
এক গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। আক্রমণের গতি বাড়াতে কোচ লিওনেল স্কালোনি দলে একাধিক পরিবর্তন আনেন। লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পরিবর্তে মাঠে নামেন নিকোলাস গঞ্জালেজ। ৭২ মিনিটে স্কালোনি একসঙ্গে তিনটি পরিবর্তন আনেন—সিমিওনে, মলিনা ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজকে উঠিয়ে মাঠে নামানো হয় রদ্রিগো দে পল, গঞ্জালো মোন্তিয়েল ও নিকোলাস ওতামেন্দিকে।
এই পরিবর্তনের পর আর্জেন্টিনার আক্রমণের ধার বহুগুণ বেড়ে যায়। ৬৯ মিনিটে মেসির ক্রসে গঞ্জালেজের দারুণ এক হেড ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করেন। এরপর ৭৬ মিনিটে দে পলের ক্রস থেকে অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসলে গোলবঞ্চিত হয় আর্জেন্টিনা।
অবশেষে ৮৫ মিনিটে ভাঙন ধরে ইংলিশ রক্ষণভাগে। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার কিক থেকে ডি-বক্সের বাইরে বল পান এনজো ফার্নান্দেজ। ২৫ গজ দূর থেকে তাঁর নেওয়া জোরালো শট গোলরক্ষক পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। সমতায় ফিরে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।
ম্যাচের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে অতিরিক্ত সময়ে (ইনজুরি টাইম) গড়ালে, ৯২ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডি-বক্সের ভেতর বল পেয়ে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে গোল করেন স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজ। এই গোলের সুবাদে ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে আলবিসেলেস্তেরা। এই নাটকীয় জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল।