বিশ্বকাপের মহামঞ্চে পর্তুগাল ও স্পেনের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত হাইভোল্টেজ (উচ্চ উত্তেজনাপূর্ণ) ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে অবসরের প্রশ্নে তীব্র ক্ষোভ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। একের পর এক একই প্রশ্ন ধেয়ে আসায় নিজের বিরক্তি আড়াল করতে পারেননি ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা। তবে অবসর নিয়ে সরাসরি কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা না দিলেও অন্য একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রোনালদো স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ফুটবলার হিসেবে এটাই হতে যাচ্ছে তাঁর শেষ বিশ্বকাপ আসর। তবে তিনি ভীষণ আশাবাদী যে, স্পেনের বিরুদ্ধে লড়াইটাই বিশ্বমঞ্চে তাঁর শেষ ম্যাচ হতে যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টায় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেনের মুখোমুখি হবে শিরোপাপ্রত্যাশী পর্তুগাল। গ্রুপ পর্বের এই কঠিন বাধা পার হতে মরিয়া দুই দলই। এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে স্বাভাবিকভাবেই দলের প্রধান তারকা ও অধিনায়ক রোনালদোকে ঘিরে গণমাধ্যমের বাড়তি আগ্রহ ছিল। তবে সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচের কৌশল বা প্রস্তুতি ছাপিয়ে অবধারিতভাবেই উঠে আসে তাঁর অবসরের প্রসঙ্গ, যা একপর্যায়ে এই স্ট্রাইকারের (আক্রমণভাগের খেলোয়াড়) বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
ম্যাচ-পূর্ববর্তী এই প্রেস কনফারেন্সে (সংবাদ সম্মেলন) নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে করা সরাসরি প্রশ্নগুলোর কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে চাননি রোনালদো। বেশ কিছু অপ্রাসঙ্গিক প্রশ্নের পর সাংবাদিকরা তাঁর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বৈরথ এবং আর্জেন্টাইন ফুটবল ভক্তদের উদ্দেশ্যে কোনো বার্তা আছে কি না—এমন একটি প্রশ্ন করেন। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে রোনালদো তাঁর স্বভাবসুলভ হাস্যোজ্জ্বল ভঙ্গিতে ফিরে আসেন এবং বিমানে ঘটে যাওয়া একটি মজার ঘটনার উল্লেখ করে বিদায়ের প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দেন।
রোনালদো হাসতে হাসতে বলেন, “গতকাল বিমানে আসার সময় একজন কেবিন ক্রু (বিমানসেবিকা) ছিলেন। তাঁর তাকানোর ধরন দেখেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে তিনি একজন আর্জেন্টাইন! আমি নিজে থেকেই তাঁকে বলেছিলাম, ‘যেভাবে আপনি আমার দিকে তাকাচ্ছেন, তাতেই আমি নিশ্চিত যে আপনি আর্জেন্টিনার নাগরিক।’ এরপর আমি কৌতুক করে আরও বলেছিলাম, যদি আপনি দ্রুত আমার দিক থেকে চোখ ফিরিয়ে নেন, তার মানে আপনি ক্রিশ্চিয়ানোকে একদমই পছন্দ করেন না।”
এই মজার গল্পের পরপরই রোনালদো তাঁর ক্যারিয়ারের বিদায়ের সুর টেনে বলেন, “আসলে এটিই আমার শেষ বিশ্বকাপ এবং আমি এই আসরের প্রতিটি মুহূর্ত পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই। তবে আমি আশা করি ও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, স্পেনের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচটিই এই টুর্নামেন্টে আমার শেষ ম্যাচ হবে না। আমরা আরও বহুদূর যেতে চাই।” ৪১ বছর বয়সেও পর্তুগিজ শিবিরের প্রধান ভরসা হয়ে থাকা এই মহাতারকা বুঝিয়ে দিলেন, ট্রফি জয়ের ক্ষুধা তাঁর এখনো ফুরিয়ে যায়নি। এখন দেখার বিষয়, স্পেনের কঠিন দুর্গ ভেঙে পর্তুগালকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন সিআর সেভেন (ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সংক্ষিপ্ত রূপ)।