ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) উত্তেজনাপূর্ণ লড়াইয়ে লখনৌ সুপার জায়ান্টসকে অনায়াসে হারিয়েছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। বিরাট কোহলির দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের দাপটে ১৫.১ ওভারেই জয় নিশ্চিত করে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে বেঙ্গালুরু।
ম্যাচের শুরু থেকেই ভাগ্য সহায় ছিল না লখনৌ সুপার জায়ান্টসের। প্রথমে ব্যাট করতে নেমে তারা বড় সংগ্রহের পথে এগোতে ব্যর্থ হয়। শুরুতেই দলের বড় ধাক্কা হয়ে আসে অধিনায়ক রিশভ পন্তের চোট। মাঠের বাইরে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে পুনরায় ব্যাটিংয়ে ফিরলেও স্বাভাবিক ছন্দে দেখা যায়নি তাকে। দলের নিয়মিত উইকেট পতন লখনৌকে ব্যাকফুটে ঠেলে দেয়। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে লখনৌ থামে ১৪৬ রানে।
দলের পক্ষে মিচেল মার্শ ৪০ এবং আয়ুশ বাদোনি ৩৮ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। তবে শেষ দিকে মুকুল চৌধুরীর ৩৯ রানের ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংসটি লখনৌকে লড়াকু পুঁজি এনে দিতে সাহায্য করে। বেঙ্গালুরুর বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রাসিখ সালাম; তিনি একাই ৪টি উইকেট শিকার করে লখনৌর ব্যাটিং মেরুদণ্ড ভেঙে দেন। অভিজ্ঞ ভুবনেশ্বর কুমার ৩টি উইকেট নিয়ে প্রতিপক্ষের রান আটকে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
১৪৭ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই কিছু উইকেট হারালেও বেঙ্গালুরুর জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি ইনিংসের হাল ধরেন এবং ৪৯ রানের একটি রাজকীয় ইনিংস খেলেন। মাত্র ১ রানের আক্ষেপ নিয়ে অর্ধশতক (ফিফটি) হাতছাড়া করলেও দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যেতে তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য। এরপর রজত পতিদার ও জিতেশ শর্মার দ্রুতগতির ব্যাটিং বেঙ্গালুরুর পথ আরও সহজ করে দেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে টিম ডেভিড এবং রোমারিও শেফার্ড উভয়েই ১৪ রান করে অপরাজিত থেকে দলকে জয় উপহার দেন। এই জয়ের সুবাদে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু পয়েন্ট তালিকার ১ নম্বরে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, পরাজয় এবং নিয়মিত অধিনায়কের চোট—এই দ্বিমুখী সংকটে পড়ে লখনৌ এখন তালিকার ৭ নম্বরে অবস্থান করছে।
এই ম্যাচটি আরও একবার প্রমাণ করল যে, ক্রিকেট কেবল রান আর উইকেটের খেলা নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার নাম। বিরাট কোহলির ধীরস্থির মানসিকতা যেখানে বেঙ্গালুরুকে স্বস্তি দিয়েছে, সেখানে লখনৌর জন্য রিশভ পন্তের চোট বড় চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামনে নকআউট পর্বের লড়াই আরও কঠিন হবে, তাই চোট কাটিয়ে লখনৌ ফিরতে পারে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।