গণভোট বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে সৃষ্ট বর্তমান অচলাবস্থা কাটানোর প্রধান দায়িত্ব বিএনপির ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে দলটিকে তাদের পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) রাজধানী ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে খেলাফত মজলিস কর্তৃক আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা সভায় জামায়াত নেতা এসব কথা বলেন। সভায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং সাংবিধানিক সংকটের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বিএনপির বর্তমান ও অতীত ভূমিকার কঠোর সমালোচনা করেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি জানিয়েছেন যে তিনি ভিন্নমতের নোট (নোট অব ডিসেন্ট) বাদে বাকি সব শর্ত মানবেন। জামায়াত নেতার মতে, সরকারের এমন বক্তব্য জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা বা শুভঙ্করের ফাঁকি ছাড়া আর কিছুই নয়। তিনি দাবি করেন, বিএনপির মনে শুরু থেকেই এক ধরনের অস্পষ্টতা ছিল, যার কারণে তারা আগে গণভোট আয়োজনে বাধা সৃষ্টি করেছিল। মূলত দেশে একটি কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা দীর্ঘস্থায়ী করতেই বিএনপি গুরুত্বপূর্ণ দশটি আইনি ও সাংবিধানিক বিষয়ে অসম্মতি বা ভিন্নমতের নোট দিয়েছিল। এখন সেই নোটের অজুহাত দেখিয়ে তারা গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কালক্ষেপণ করছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা প্রধানমন্ত্রীকে অবিলম্বে বিরোধী দলগুলোর সাথে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি একটি শক্তিশালী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সবার মতামত ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতির বর্ণনা দিতে গিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, জ্বালানি সংকটে দেশের সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠছে। অথচ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী দাবি করছেন দেশে কোনো সংকট নেই। বাস্তবতা হলো, পেট্রোল পাম্পগুলোতে মানুষের দীর্ঘ সারি আজও কমেনি। মিথ্যে আশ্বাসের মাধ্যমে সংকট আড়াল করার চেষ্টা কোনো সুফল আনবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি সাম্প্রতিক সহিংসতার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। চট্টগ্রাম সিটি কলেজের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল নিজেদের অন্তর্দ্বন্দ্বে এক ছাত্রের পায়ের রগ কেটে দিলেও এর দায় অন্যায়ভাবে ইসলামী ছাত্রশিবিরের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দেশকে সহিংসতার দিকে ঠেলে না দেওয়ার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি আহ্বান জানান।
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণভোটের ইস্যুটি কেবল আইনি মারপ্যাঁচে আটকে নেই, বরং এটি বড় দুই রাজনৈতিক শক্তির মধ্যকার দীর্ঘদিনের অনাস্থার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়া গোলাম পরওয়ারের এই কড়া বক্তব্য রাজনৈতিক মেরুকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। জনমতের সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে রাজনৈতিক দলগুলো কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছাতে পারবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।