বাংলাদেশে নবনিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর একটি সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা ও বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে। তার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ সংক্রান্ত এই বক্তব্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির। জনমনে সম্ভাব্য বিভ্রান্তি এড়াতে এই মন্তব্যের প্রকৃত অর্থ স্পষ্ট করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ ও ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তিনি।
হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দেওয়া একটি বক্তব্য জামায়াত আমিরের দৃষ্টিগোচর হয়। এই মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে জামায়াত আমির তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, ভারতীয় হাইকমিশনারের ‘ভারত-বাংলাদেশের এক হয়ে যাওয়া’ বিষয়ক বক্তব্যটির প্রকৃত অর্থ কী, তা স্পষ্ট করার জন্য সরকারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের সার্বভৌমত্বের বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত যেমন একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, তেমনই বাংলাদেশও একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। এই প্রেক্ষাপটে এমন একটি বক্তব্য, যা স্পষ্ট নয়, তা স্বাভাবিকভাবেই জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তার মতে, দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য পারস্পরিক সম্মান ও দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি সংবেদনশীলতা অপরিহার্য। এই ধরনের অস্পষ্ট মন্তব্য সেই সুসম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
জামায়াত আমির এই মন্তব্যের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের কাছে অবিলম্বে ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। তিনি বলেন, যদি হাইকমিশনারের বক্তব্যটি আক্ষরিক অর্থেই কোনো একীভূতকরণের ইঙ্গিত দেয়, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয় হবে এবং বিষয়টি দ্রুত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। তিনি সরকারের প্রতি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান, যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি না হয় এবং দেশের জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে পারে। যেকোনো কূটনৈতিক মন্তব্যের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মনে করেন।
দুটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতিকদের এমন মন্তব্য, বিশেষত যেখানে ঐতিহাসিকভাবে পারস্পরিক সম্পর্ক ও সীমান্ত সংবেদনশীল, সেখানে এটি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে ব্যাখ্যা করা উচিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লক্ষ লক্ষ মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে, তাই দেশের অভ্যন্তরীণ বা আন্তর্জাতিক কোনো বিষয়ে এমন মন্তব্য দেশের মানুষের অনুভূতিকে প্রভাবিত করতে পারে।