বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস এক সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ আমন্ত্রণে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন। শনিবার রাতে রাজধানীর বনানীতে আয়োজিত এক সংলাপে এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব (সংবাদ সচিব) সালেহ শিবলী।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাতে সাইবার নিরাপত্তা বিল নিয়ে আয়োজিত একটি বিশেষ সংলাপে অংশ নিয়ে সালেহ শিবলী অতীতের এই ঘটনাটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ২০০৪ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফরে গিয়েছিলেন, তখন তিনি বিল গেটসের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকারে মিলিত হন। সেই বৈঠকেই তিনি এই বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তিবিদকে বাংলাদেশে আসার আমন্ত্রণ জানান। প্রধানমন্ত্রীর সেই ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও আহ্বানে সাড়া দিয়েই বিল গেটস পরবর্তীতে অত্যন্ত গোপনীয়তা ও দ্রুততার সাথে (ঝটিকা সফর) বাংলাদেশ সফর করেছিলেন।
সংলাপে সালেহ শিবলী দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিয়েও কথা বলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রেস সচিবের ভাষায়, “প্রধানমন্ত্রীর মূল দর্শন হলো মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।” তবে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল মানুষের কুরুচিপূর্ণ সমালোচনা ও ভাষার ব্যবহারের প্রতি তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে গালিগালাজ করা কখনোই বাকস্বাধীনতার অংশ হতে পারে না। সুস্থ সমালোচনা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, কিন্তু অশালীন ভাষা ব্যবহার মানুষের সংস্কৃতির পরিচয় বহন করে না।
উক্ত সংলাপে প্রযুক্তি ও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির নতুন দিগন্ত নিয়ে কথা বলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান। তিনি দেশের সাধারণ মানুষের জন্য এক বৈপ্লবিক সংবাদ দিয়ে জানান যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সারা দেশজুড়ে বিনামূল্যে ইন্টারনেট (অন্তর্জাল) সেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করছেন। তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ যেন বৈশ্বিক তথ্যভাণ্ডারের সাথে যুক্ত হতে পারে, সেজন্যই এই মহতী উদ্যোগের কথা ভাবা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা দেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ গণমাধ্যমের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। সালেহ শিবলী দাবি করেন যে, বর্তমান সরকার এবং বিএনপি সবসময়ই স্বাধীন সংবাদপত্রের বিকাশে বিশ্বাসী। সাইবার জগতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নাগরিকদের গণতান্ত্রিক অধিকারের ভারসাম্য বজায় রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
বিল গেটসের মতো বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্বের বাংলাদেশ সফরের নেপথ্য কাহিনী দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের ঐতিহাসিক গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে। তবে একই সাথে বর্তমান সময়ে ইন্টারনেটে শিষ্টাচার বর্জিত আচরণ এবং গালিগালাজের যে সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে, তা আমাদের সামাজিক মূল্যবোধের জন্য বড় সতর্কবার্তা। প্রযুক্তিকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার করা এবং তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি ভার্চুয়াল জগতে শালীনতা বজায় রাখাও সমভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশব্যাপী বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদানের যে ভাবনার কথা শোনা যাচ্ছে, তা বাস্তবায়িত হলে ডিজিটাল বিভাজন কমে আসবে এবং বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও বেগবান হবে বলে আশা করা যায়।