আগামী অর্থবছরে মোটরসাইকেল মালিকদের ওপর নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে সরকার। তবে জীবন ও জীবিকার তাগিদে ব্যবহৃত এই বাহনের ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপানোর সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে সামনে রেখে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এরই অংশ হিসেবে দেশের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের নিত্যদিনের বাহন মোটরসাইকেলের ওপর কর আরোপের একটি প্রস্তাবনা খসড়া তালিকায় স্থান পেয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন ক্ষমতার (সিসি) ওপর ভিত্তি করে বছরে দুই হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত অগ্রিম আয়কর বা কর দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হতে পারে।
এই খবর প্রকাশ্যে আসার পরই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পাতায় একটি বিশেষ বার্তা দিয়েছেন। তিনি সরকারের এমন পরিকল্পনা থেকে সরে আসার জন্য জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অধিকাংশ মোটরসাইকেল মালিকই বিত্তবান বা সম্পদশালী নন। মূলত জীবন ও জীবিকার কঠিন প্রয়োজনে, যাতায়াতের খরচ কমাতে এবং স্বল্প আয়ের মানুষরা এই বাহনটির ওপর নির্ভরশীল। সংসার চালানোর লড়াইয়ে ক্লান্ত এই মানুষগুলোর ওপর বাড়তি করের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই সমীচীন হবে না। তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে রাজস্ব আহরণের প্রয়োজনীয়তাকে আমরা অস্বীকার করছি না। তবে সেই কর আহরণের প্রক্রিয়া হতে হবে জনবান্ধব। জনস্বার্থবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিলে তা সাধারণ মানুষের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
বর্তমানে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে।
জ্বালানি তেলের দাম ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি। এমন বাস্তবতায় সরকারের এই নতুন করের চিন্তা সাধারণ মানুষের ওপর মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। জামায়াত আমির স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যদি সরকার শেষ পর্যন্ত এমন জনস্বার্থবিরোধী অবস্থানে অটল থাকে, তবে তা সাধারণ জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়াবে। তাই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এবং নিম্নআয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকারকে এমন বিতর্কিত পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
এখন পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে এই বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা না এলেও প্রস্তাবটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। সাধারণ মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের অভিযোগ, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলার কারণে বাধ্য হয়েই তারা মোটরসাইকেল ব্যবহার করছেন। সেখানেও কর আরোপ করা হলে তা তাদের জীবনযাত্রার মানে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
করের জাল বিস্তার করে রাজস্ব বাড়ানো রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব হলেও, কোন খাত থেকে কর আদায় করা হচ্ছে তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের বাহন বা আয়ের মাধ্যমকে লক্ষ্যবস্তু না করে বরং বিলাসী পণ্য বা অসংগঠিত কর ফাঁকির বড় বড় ক্ষেত্রগুলোতে নজর দেওয়া বেশি যৌক্তিক। উন্নয়নের দোহাই দিয়ে জনগণের পকেট থেকে বাড়তি অর্থ আদায়ের চেয়ে সরকারের উচিত হবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার দিকে নজর রাখা, যাতে একটি জনবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট প্রণয়ন সম্ভব হয়।