দেশের সার্বিক ও টেকসই পরিবর্তনের জন্য রাষ্ট্রের সর্বস্তরে সংস্কার এখন অপরিহার্য হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গণভোটের সিদ্ধান্ত মেনে না নেওয়ায় জাতীয় জীবনে নতুন করে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার অধিবেশনের উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘ সময় পর অনুষ্ঠিত জামায়াতের এই গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কেন্দ্রীয় শূরার সদস্যরা অংশ নেন। দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা দূরীকরণে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে এই অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংসদে সরকারের ভূমিকা এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কর্মকাণ্ডের প্রতি ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংসদ অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্যান্য সকল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব ও বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে দেখা গেলেও, নিজের মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব নিয়ে তাঁর কোনো বিশেষ মনোযোগ বা ভ্রূক্ষেপ নেই।” দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব কার্যক্রমের প্রতি সরকারের এই ধরনের উদাসীনতা কাম্য নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংসদীয় রাজনীতি ও জনগণের অধিকার রক্ষা প্রসঙ্গে জামায়াতের আমির সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, জাতীয় ও জনগণের স্বার্থ সুরক্ষায় বিরোধী দল সংসদে সবসময় বলিষ্ঠ ও আপসহীন ভূমিকা পালন করবে। সরকার যদি জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী বা ক্ষতিকর কোনো পদক্ষেপ অথবা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, তবে সংসদ এবং রাজপথ—উভয় জায়গাতেই এর বিরুদ্ধে তীব্র ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত রাখা হবে। জনগণের অধিকার হরণের যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে তাঁরা প্রস্তুত।
দেশের sovereignty তথা সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কোনো ধরনের অন্যায্য শক্তি বা আধিপত্যবাদের কাছে কখনোই মাথা নত করব না।” দেশের মানুষের মৌলিক ও সাংবিধানিক অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং সব ধরনের সামাজিক ও political অন্যায়ের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর লড়াই অবিরাম চলবে বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে জোর দেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াত আমিরের এই বক্তব্য দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার কৌশলগত অবস্থান এবং সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা আগামী দিনে দেশের রাজনীতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, তা এখন দেখার বিষয়।