চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে থাকা ক্রোয়েশিয়ার কিংবদন্তি মিডফিল্ডার লুকা মদরিচ এক অনাকাঙ্ক্ষিত চোটের মুখে পড়েছেন। গালের হাড় ভেঙে যাওয়ায় এই অভিজ্ঞ ফুটবলারকে এখন অস্ত্রোপচারের টেবিলে বসতে হচ্ছে, যা আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে তার ভক্তদের মনে শঙ্কা জাগিয়েছে।
ফুটবল জগতের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র লুকা মদরিচের সময়টা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। ৪০ বছর বয়সে এসেও যখন তিনি তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই চোটের এই বড় আঘাত হানা দিল। তার বর্তমান ক্লাব ইতালীয় জায়ান্ট এসি মিলান এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, মদরিচের বাম গালের হাড় (জাইগোম্যাটিক বোন বা চোখের নিচের হাড়) মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর নিরাময়ের জন্য দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন।
ঘটনাটি ঘটে গত রোববার সান সিরো স্টেডিয়ামে জুভেন্টাসের বিপক্ষে একটি হাইভোল্টেজ ম্যাচে। খেলার এক পর্যায়ে জুভেন্টাসের মিডফিল্ডার মানুয়েল লুকাতেল্লির সঙ্গে একটি এরিয়াল বল (শূন্যে থাকা বল) দখলের লড়াইয়ে দুজনের মাথা ও গালের জোরালো সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পরপরই মদরিচকে যন্ত্রণায় কাতর দেখা যায়। তবে দলের প্রতি নিষ্ঠার কারণে প্রাথমিক ব্যথা চেপে রেখে তিনি আরও কিছুক্ষণ মাঠে ছিলেন। অবশেষে ম্যাচের শেষ ১০ মিনিট বাকি থাকতে তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। গোলশূন্য ড্র হওয়া সেই ম্যাচে শেষ পর্যন্ত তিনি ডাগআউটে (খেলোয়াড়দের বসার স্থান) বসেই খেলা শেষ করেন।
প্রাথমিকভাবে মনে করা হয়েছিল চোট হয়তো খুব একটা গুরুতর নয়। কিন্তু ম্যাচ শেষে নিবিড় শারীরিক পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে তার হাড় ভেঙেছে। ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিজ্ঞ এই ফুটবলারকে সুস্থ করে তুলতে অস্ত্রোপচার ছাড়া অন্য কোনো পথ নেই। এই চোটের ফলে তিনি কতদিন মাঠের বাইরে থাকবেন, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা হয়নি। তবে বিশ্বকাপের মতো বড় আসরের আগে এমন চোট ক্রোয়েশিয়া জাতীয় দলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
বর্তমানে ইতালীয় লিগ টেবিলে এসি মিলান তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। শীর্ষে থাকা ইন্টার মিলানের চেয়ে তারা ১২ পয়েন্টে পিছিয়ে আছে। লিগের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের প্রাণভ্রমরা মদরিচকে হারানো মিলানের শিরোপা দৌড়েও একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সফল অস্ত্রোপচার শেষে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই ‘মিডফিল্ড মায়েস্ট্রো’ বা মাঝমাঠের জাদুকর আবার মাঠে ফিরতে পারেন কি না।
বয়সকে জয় করে লুকা মদরিচ যেভাবে নিজেকে বিশ্বমানের পর্যায়ে ধরে রেখেছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে গালের হাড়ের মতো সংবেদনশীল স্থানে অস্ত্রোপচার তার আসন্ন বিশ্বকাপ যাত্রাকে অনিশ্চয়তায় ফেলতে পারে। ফুটবল প্রেমীরা এখন প্রার্থনা করছেন যেন এই চোট তার শেষ বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্নকে ধুলিসাৎ না করে দেয়। মাঠের বীরত্ব ছাপিয়ে শারীরিক সুস্থতাই এখন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।