বিশ্বকাপের (World Cup) হাজারতম ম্যাচটি নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে চিরস্মরণীয় করে রাখল জাপান। মেক্সিকোর গুয়াদালুপে অনুষ্ঠিত ‘এফ’ গ্রুপের একপেশে লড়াইয়ে উত্তর আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়াকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে এশিয়ার পরাশক্তিরা। প্রথমার্ধেই জোড়া গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের মুঠোয় নেওয়া ‘ব্লু সামুরাই’ খ্যাত দলটি দ্বিতীয়ার্ধেও প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে আরও দুবার। ৪-০ গোলের এই দাপুটে জয়ে বিশ্বকাপের নকআউট (পরবর্তী রাউন্ড) পর্বে ওঠার আশা প্রবলভাবে বাঁচিয়ে রাখল জাপান।
রোববার (বাংলাদেশ সময় সকালে) অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জাপানের হয়ে জোড়া গোল করে মাঠ মাতিয়েছেন প্রতিভাবান ফরোয়ার্ড আয়াসে উয়েদা। এছাড়া একটি করে গোল নিজেদের নামের পাশে লিখিয়েছেন দাইচি কামাদা এবং জুনিয়া ইতো। এই জয়ে নতুন একটি ইতিহাসও গড়েছে এশিয়ার দেশটি। বিশ্বমঞ্চের কোনো ম্যাচে প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষের জালে চারবার বল পাঠানোর অনন্য কীর্তি গড়ল তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে জাপান। রেফারির বাঁশি বাজার মাত্র চার মিনিটের মাথাতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেয়ে যায় তারা। কেইতো নাকামুরার দুর্দান্ত কাটব্যাক থেকে ডি-বক্সের ভেতরের জটলার মধ্যে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন কামাদা। এটি ছিল বিশ্বকাপের মঞ্চে জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুততম গোল। এরপর ব্যবধান বাড়াতে খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি তাদের। ম্যাচের ৩১তম মিনিটে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের (রক্ষণভাগের খেলোয়াড়) পায়ের ফাঁক গলে দূরের পোস্টে বল পাঠিয়ে দর্শনীয় এক গোল করে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন আয়াসে উয়েদা।
অন্যদিকে, তিউনিসিয়ার জন্য এই বিশ্বকাপ যেন এক দুঃস্বপ্নের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত সপ্তাহে সুইডেনের বিপক্ষে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারের পর প্রধান কোচ সাব্রি লামুচিকে বরখাস্ত করে তিউনিসিয়া ফুটবল ফেডারেশন। দলের ভাগ্য বদলাতে তড়িঘড়ি করে দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল সৌদি আরবের সাবেক সফল কোচ হার্ভে রেনার্ডের কাঁধে। কিন্তু নতুন কোচের অধীনেও দলের হতশ্রী দশার কোনো পরিবর্তন হয়নি। পুরো ম্যাচজুড়েই তাদের খেলা ছিল চরম অগোছালো এবং পরিকল্পনাহীন। মাঝমাঠে জাপানকে প্রচুর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার চরম মাশুল গুনতে হয়েছে উত্তর আফ্রিকার দলটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধেও মাঠে নিজেদের একক আধিপত্য ধরে রাখে জাপান। ম্যাচের ৬৯তম মিনিটে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক আয়মেন দাহমেনকে বোকা বানিয়ে দলের হয়ে তৃতীয় গোলটি করেন জুনিয়া ইতো। আর ৮৩তম মিনিটে দুর্দান্ত এক হেডের (মাথার আঘাত) সাহায্যে বল জালে জড়িয়ে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের বড় জয় নিশ্চিত করেন উয়েদা। পুরো ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করে খেলা জাপানের রক্ষণভাগও ছিল বেশ জমাট। তিউনিসিয়ার বিক্ষিপ্ত আক্রমণগুলো তারা অত্যন্ত সহজেই রুখে দিয়েছে।
এই দুর্দান্ত জয়ে চার পয়েন্ট নিয়ে অন্তত সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার পথ অনেকটাই মসৃণ করেছে জাপান। আগামী শুক্রবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে সুইডেনের বিপক্ষে ড্র (অমীমাংসিত) করতে পারলেই সরাসরি শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত হবে তাদের। অন্যদিকে, টানা দুই হারে এক ম্যাচ হাতে রেখেই গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া তিউনিসিয়া তাদের শেষ ম্যাচে মাঠে নামবে গ্রুপের শীর্ষে থাকা শক্তিশালী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে।