ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিএনপি। দলের আদর্শে বিশ্বাসী যেকোনো নারী সদস্যই মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন এবং যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় দিনের মতো সংরক্ষিত নারী আসনের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দলের প্রতি আনুগত্য এবং দীর্ঘদিনের রাজপথের ত্যাগই হবে প্রার্থী বাছাইয়ের প্রধান মানদণ্ড।
রিজভী বলেন, বিগত প্রায় দেড় দশক ধরে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন, জেল-জুলুম ও নানামুখী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের সেই অভিজ্ঞতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করেই বিএনপি প্রার্থী বাছাই করছে এবং প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে জনগণের কাছে জবাবদিহিতার পরিবেশ বজায় রাখা হচ্ছে।
মনোনয়ন ফরম বিক্রির চিত্র তুলে ধরে তিনি জানান, নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড়শটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে এবং প্রথম দিনেই পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। এই বিক্রয় কার্যক্রম আগামীকাল পর্যন্ত চলবে এবং আগামী ২১ এপ্রিলের মধ্যে পূরণকৃত ফরমগুলো জমা দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১২ মে সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিলে বলা হয়েছে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, যা যাচাই-বাছাই করা হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল।
উল্লেখ্য, জাতীয় সংসদের মোট ৩৫০টি আসনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। বর্তমান সংসদের আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি পাচ্ছে ৩৫টি আসন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পাচ্ছে ১১টি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পাচ্ছে ১টি আসন। বাকি আসনগুলো অন্যান্যদের মধ্যে বণ্টিত হবে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যারা দুর্দিনে দলের হাল ধরেছিলেন, সেইসব নারী নেত্রীদের সংসদীয় রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই কাজ করছে দলের হাইকমান্ড।
দীর্ঘদিন পর সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলের শক্তিশালী অংশগ্রহণ এবং সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন নিয়ে এই ব্যাপক উৎসাহ রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। তবে দলীয় কোন্দল এড়িয়ে প্রকৃত ত্যাগীদের মূল্যায়ন করাই এখন বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। যোগ্য নারী নেতৃত্ব বাছাই করা সম্ভব হলে তা যেমন দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে, তেমনি সংসদের ভেতরেও বিরোধী দলের অবস্থানকে আরও জোরালো করবে।