Logo
ট্রেন্ডিং: হামে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত সহস্রাধিক যুবলীগ চেয়ারম্যান পরশ ও স্ত্রীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বাংলাদেশ আর কখনও কারও কাছে মাথা নত করবে না: সংসদে খলিলুর নেপাল সীমান্তে প্রলয়ঙ্করী বন্যা: নিহত ৩৩০, নিখোঁজ সহস্রাধিক

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: সিলেটের মাঠে গর্জে উঠল বাংলাদেশ

Roksana
29 August 2026, 02:09 AM পড়তে ১ মিনিট
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: সিলেটের মাঠে গর্জে উঠল বাংলাদেশ

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয়ের সাক্ষী হলো বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা। সিলেটের মাঠে শেষ দিনের নাটকীয়তায় ৭৮ রানের ব্যবধানে সফরকারীদের পরাজিত করে নাজমুল হোসেন শান্তর দল নিশ্চিত করল সিরিজ জয়। এর মাধ্যমেই টানা দুই টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার গৌরব অর্জন করল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

 ম্যাচের শেষ দিনে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল মাত্র তিনটি উইকেট। বিপরীতে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১২১ রান। সকাল থেকেই সিলেটের আকাশে মেঘের আনাগোনা থাকলেও খেলা শুরু হতে দেরি হয়নি খুব বেশি। তবে দিনের শুরুতেই মোহাম্মদ রিজওয়ান এবং সাজিদ খানের দুর্দান্ত ব্যাটিং বাংলাদেশের শিবিরে কিছুটা শঙ্কার ছায়া ফেলেছিল। দ্রুত রান তোলার নেশায় মত্ত এই জুটি বারবার পরাস্ত করছিল বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপকে।

এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল, ম্যাচটি কঠিন পরিস্থিতির দিকে মোড় নিচ্ছে। ফিল্ডারদের হাত ফসকে ক্যাচ বেরিয়ে যাওয়া কিংবা বল ব্যাটের কানায় লেগে সীমানা ছাড়া হওয়া—সব মিলিয়ে সকালের এক ঘণ্টা সময় ছিল চরম উত্তেজনার। তবে পানি পানের বিরতি যেন আশীর্বাদ হয়েই এল। বিরতির পর বল হাতে ফিরেই তাইজুল ইসলাম ভাঙেন সেই দুর্ভেদ্য জুটি। সাজিদ খানকে সাজঘরে ফিরিয়ে স্বস্তি ফেরান তিনি।

সাজিদ আউট হওয়ার পরপরই যেন খেই হারিয়ে ফেলে পাকিস্তানি ব্যাটাররা। শরিফুল ইসলাম তার স্পেলে এসে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ফেরান রিজওয়ানকে, যিনি ব্যক্তিগত ৯৪ রানে অপরাজিত ছিলেন। এরপর আর ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি পাকিস্তান। মাত্র ১৩ বলের ব্যবধানে শেষ তিন উইকেট হারিয়ে ৩৫৮ রানেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা। বল হাতে একাই লড়েছেন তাইজুল ইসলাম। ছয় উইকেট শিকার করে তিনি আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি দেশের সফলতম টেস্ট বোলার। পুরো ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে জয়ের নায়ক তিনিই।

উল্লেখ্য যে, এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল বাংলাদেশ। সেইবার টস জয়ের সুবিধা পেলেও, এবারের জয়টি ছিল ভিন্ন মাত্রার। দুই টেস্টেই টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ের চ্যালেঞ্জ নেওয়া সত্ত্বেও দলের প্রতিটি খেলোয়াড় নিজেদের উজাড় করে দিয়ে জয় ছিনিয়ে এনেছেন। জয়ের পর দলের সদস্যদের উদযাপন ছিল পরিমিত, যা ইঙ্গিত দেয়—বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান এখন আর ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ২৭৮ রান।
পাকিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৩২ রান।
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৯০ রান।
পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংস: ৩৫৮ রান (৯৭.২ ওভার)।
ফল: বাংলাদেশ ৭৮ রানে জয়ী। সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জয়ী।

 এই জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। কঠিন কন্ডিশন ও প্রতিকূল পরিস্থিতি জয় করে যেভাবে শান্তর দল পারফর্ম করেছে, তা প্রশংসনীয়। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নেওয়ার যে মানসিকতা বাংলাদেশ দেখিয়েছে, তা বড় দল হওয়ার লক্ষণ। এই সাফল্য দেশের তরুণ ক্রিকেটারদের আরও অনেক দূর এগিয়ে নিতে প্রেরণা জোগাবে। তবে ভবিষ্যতে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে ব্যাটিং ও বোলিংয়ের এই সমন্বয়কে আরও সুসংহত করতে হবে।

পরবর্তী খবর লোড হচ্ছে...
খেলাধুলা

পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়: সিলেটের মাঠে গর্জে উঠল বাংলাদেশ

R
Roksana | 20 May 2026
বিস্তারিত পড়ুন
new.karatoa.com.bd

Logo

প্রচ্ছদ
সোশ্যাল মিডিয়া ই-পেপার